উমরান মালিকের বাজে বোলিং: ডিওয়াই পাতিল কাপে এক ওভারে ৩৬ রান খরচ
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে উঠে আসা পেসার উমরান মালিককে মনে আছে তো? সেই যে আইপিএলে গতির ঝড় তুলে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন, গায়ে চড়েছিল ভারতের জার্সিও। কিন্তু অনেক দিন ধরেই স্মরণীয় কোনো পারফরম্যান্স নেই তাঁর, যে কারণে শিরোনামেও নেই। এবার বাজে বোলিং করে আবার আলোচনায় ফিরেছেন এই ক্রিকেটার।
ডিওয়াই পাতিল টি–টুয়েন্টি কাপে উমরানের দুঃখজনক পারফরম্যান্স
আজ ডিওয়াই পাতিল টি–টুয়েন্টি কাপের একটি ম্যাচে উমরান মালিক এক ওভারে ৩৬ রান দিয়েছেন। একই ম্যাচের অন্য ওভারে দিয়েছেন ২৩ রান। অর্থাৎ, দুই ওভারেই মোট ৫৯ রান খরচ করেছেন তিনি, যা তাঁর বোলিং দক্ষতায় বড় প্রশ্ন তুলেছে।
নাবি মুম্বাইয়ে হওয়া ম্যাচটিতে উমরান খেলেন টাটা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে, প্রতিপক্ষ ছিল মুম্বাই কাস্টমস। প্রথমে ব্যাট করে উমরানের দল ১৯৩ রান করে। এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে পান উমরান। এই ওভারেই ঋগ্বেদ মোরে তাঁর বলে তিনটি ছক্কা, একটি চারসহ মোট ২৩ রান তুলে নেন।
অধিনায়কের সিদ্ধান্ত ও উমরানের অব্যাহত খারাপ বোলিং
শুরুতেই এত বেশি রান দেওয়ায় অধিনায়ক শার্দূল ঠাকুর উমরানকে আর পরের ওভারে বোলিং দেননি। ২৬ বছর বয়সী এই পেসারকে আবার বোলিংয়ে ফেরানো হয় ইনিংসের ১৩তম ওভারে। ততক্ষণে মুম্বাই কাস্টমসের দুই ওপেনার মোরে ও শচীন যাদব মিলে ১২৮ রান যোগ করে ফেলেছেন, জয়ের জন্য ৮ ওভারে তাঁদের প্রয়োজন ৬৫ রান।
আর এমন পরিস্থিতিতে বোলিংয়ে এসে দলকে আরও বেকায়দায় ফেলেন উমরান। প্রথম বলে এক রান হওয়ার পর দ্বিতীয় বলে মোরে মারেন চার, তৃতীয় বলে ছক্কা। তবে ডেলিভারিটি ছিল ‘নো’। ফ্রি হিটের ডেলিভারিতে আবার মোরেকে কোনো রান নিতে দেননি উমরান। কিন্তু পরের দুই বলে আবারও ছক্কা ও চার। এরপর একটি ওয়াইড ও একটি নো। ফ্রি হিটে যাদব চার মারেন, আম্পায়ার জানান, এটিও ছিল ‘নো’। আরেকবার ফ্রি হিট হলে যাদব মেরে দেন ছক্কা।
ম্যাচের ফলাফল ও উমরানের বর্তমান অবস্থা
ওভার শেষে উমরানের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২ ওভারে ৫৯ রান, কোনো উইকেট ছাড়াই। মুম্বাই কাস্টমসের জয়ের জন্য তখন ৪২ বলে দরকার পড়ে মাত্র ২৯ রান, যা তারা পরের ১৮ বলেই তুলে নেয়।
ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে এবং ৮টি টি-টুয়েন্টি খেলা উমরান সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৩ সালে। গত বছরের আইপিএল নিলামের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে রিটেইন করে। এরপর সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে ৫ ম্যাচে ৬টি উইকেট নেন প্রায় ১০ ইকোনমিতে। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁর বোলিং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হতাশাজনক হয়েছে।
