আফগানিস্তানে কাজ করতে দ্বিধা নেই পাইবাসের, তরুণ খেলোয়াড় খুঁজতে ঘুরবেন প্রদেশে
আফগানিস্তানে কাজে দ্বিধা নেই পাইবাসের, তরুণ খেলোয়াড় খুঁজবেন

আফগানিস্তানে কাজ করতে দ্বিধা নেই পাইবাসের

প্রায় চার বছর ধরে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন জনাথন ট্রট। তবে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একবারও আফগানিস্তানে যাননি। অন্যদিকে, দলটির নতুন প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে গিয়ে কাজ করতে তাঁর কোনো সমস্যা নেই।

বিদেশি কোচদের জন্য চ্যালেঞ্জ

২০১৭ সালে আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ পাওয়ার পরও আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত নিজ দেশের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশি কোচরা সাধারণত বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ভারতের মাঠ। কোচরাও সেখানেই গিয়ে দলের সাথে কাজ করেন।

সাম্প্রতিক টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আফগানিস্তানের বিদায়ের পর প্রধান কোচের পদ ছেড়েছেন জনাথন ট্রট। ইংল্যান্ডের এই কোচের অধীনে ২০২২ সালের জুলাই থেকে খেলে আসছিল আফগানিস্তান দল। ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে পাইবাসকে দায়িত্ব দেয় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

পাইবাসের স্পষ্ট অবস্থান

পূর্ববর্তী কোচ আফগানিস্তানে না গেলেও পাইবাসের ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমার এতে কোনো সমস্যা নেই। আমি বিশ্বের অনেক জায়গায় বসবাস করেছি, তাই আমার কোনো সমস্যা নেই।’ ৬১ বছর বয়সী পাইবাসের ক্রিকেট কোচিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সময় তিনি পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ছিলেন। ২০১২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ ও নারী দল টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, অনূর্ধ্ব–১৯ দলও ট্রফি জিতেছিল।

তরুণ খেলোয়াড় খুঁজতে প্রদেশে ঘুরবেন

পাইবাস এবার আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে আনার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রদেশগুলোতে ঘুরে ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে চাই, নির্বাচকদের সাথে কাজ করতে চাই এবং খেলোয়াড়দের উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে চাই। সিরিজের সময় সাধারণত খেলোয়াড়দের উন্নয়ন করা যায় না। খেলোয়াড় তৈরির কাজটা আসলে সিরিজের বাইরে পর্দার আড়ালে করতে হয়।’

পাইবাসের মতে, দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা চোট পেলে দল দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গভীরতা বাড়ানো, প্রতিটি পজিশনের জন্য বাড়তি খেলোয়াড় তৈরি এবং বর্তমান খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য আফগানিস্তানের পুরো ক্রিকেট কাঠামোটি মূল্যায়ন করা জরুরি।

আসন্ন চ্যালেঞ্জ

আফগানিস্তান দলে পাইবাসের প্রথম কাজ হবে আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজ। ১৩ মার্চ শারজায় শুরু হবে আফগানিস্তান–শ্রীলঙ্কা টি–টুয়েন্টি সিরিজ। এরপর দুবাইয়ে দুই দলের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলা হবে। পাইবাসের নেতৃত্বে আফগানিস্তান দল কীভাবে এগোয়, সেটি এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষার বিষয়।