সাকিব-মাশরাফির মামলা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মোর্তজার বিরুদ্ধে অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে দায়ের করা মামলা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “সাকিব ও মাশরাফি দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। সাকিব-মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে। আমরা এই ব্যাপারে নমনীয় থাকবো। তাদের যে মামলা আছে, সেসব নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে। আমরা চাই সাকিব-মাশরাফি ফিরে আসুক।”
ক্রিকেটে ফিরে আসার আহ্বান
সাকিব আল হাসান এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি, তবে তিনি দেশে ফিরে অবসরের ইচ্ছা একাধিকবার প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মাশরাফি বিন মোর্তজা খেলার বাইরে থাকলেও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আমিনুল হক তাদের আইনি বিষয় দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সেটা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে, সেই চেষ্টা করা হবে। আমরাও চাই, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-মাশরাফি ফিরে আসুক।”
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি— এটা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এটা নিয়ে আমরা বসবো, আলোচনা করবো। আমরা ভালোর দিকে যেতে চাই। দ্রুত সময়ের ভেতরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবো।” এই মন্তব্যে বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আমিনুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের কথা বলেছি। আমরা চাই, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে। আর ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আইসিসির নিয়ম মেনে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মোর্তজার বিরুদ্ধে মামলা এবং দেশে ফিরতে বাধার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
