খুলনার দৌলতপুর রেলস্টেশন বস্তিতে পানির সংকট: বিলকিস বেগমের দৈনন্দিন সংগ্রাম
খুলনা নগরের দৌলতপুর রেলস্টেশন বস্তিতে বাস করেন বিলকিস বেগম। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি একটি বালতি ও কাপড় নিয়ে কলতলায় যান। পরিবারের দৈনন্দিন পানির কাজ সেরে নিতে তাঁকে ভরসা করতে হয় গলির একেবারে কোনায় থাকা একটি অগভীর নলকূপের ওপর। এই নলকূপ থেকেই পাঁচ সদস্যের পরিবারের সব ধরনের পানির চাহিদা মেটান বিলকিস।
ভোরবেলা পানি তোলার কষ্ট
বিলকিস বেগমের ভাষ্যে, ‘ভোরের দিকে পানি তুললে আয়রন কিছুটা কম থাকে। আমরা কলসিতে পানি ভরে তাতে ফিটকিরি মিশিয়ে ব্যবহার করি।’ তিনি জানান, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। গরমের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। তখন অনেক সময় নলকূপে পানি ওঠে না, ফলে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
খুলনা নগরের পানির চাহিদা ও সরবরাহ
খুলনা নগরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিদিনের পানির চাহিদা প্রায় ২৪ কোটি লিটার। অথচ নগরের পানির সরবরাহব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা খুলনা ওয়াসা ৪০ হাজার বাড়িতে দিনে মাত্র সাত কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। গরমের মৌসুমে সেই সরবরাহকৃত পানির একটি অংশ লবণাক্ত হয়ে পড়ায় তা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়।
গরমে নলকূপের পানি সংকট
এদিকে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের বেশির ভাগ নলকূপেও পানি ওঠা কমে যায়। ফলে পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সাবমার্সিবল পাম্পই ভরসা হয়ে উঠছে নগরবাসীর জন্য। বিলকিস বেগম বলেন, ‘এখানে একটা গভীর নলকূপ থাকলে পানির সমস্যা কিছুটা কমত।’
এই সংকট শুধু দৌলতপুর বস্তিতে নয়, খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে পানির অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই সংকটে বেশি ভুগছেন।



