মৌলভীবাজারে মনু নদের পাড়ে বরুণগাছের ফুলে ফুলে রাজকীয় শোভা
ডালে ডালে ফুলের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে মৌলভীবাজার শহরের মনু নদের পাড়ের একটি বরুণগাছ। শুক্রবার সকালে এই গাছটি সাদা-হালকা হলুদ ও বেগুনি আঁচের ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য প্রদর্শন করছে। বছরের পর বছর ধরে এই গাছটি বসন্তকালে ফুলের ঐশ্বর্য নিয়ে ফিরে আসে, এবারও তা অব্যাহত রয়েছে।
প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে ওঠা বরুণগাছ
এই বরুণগাছটি মনু নদের তীরের একটি খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যার জন্ম সম্ভবত নদের জলের স্রোতে ভেসে আসা বীজ থেকে। কারও যত্ন বা হাতের ছোঁয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক নিয়মে এটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এবং সবার অলক্ষ্যে ফুল ফুটে উঠেছে। গাছটি মাটি থেকে কয়েক ফুট উচ্চতায় উঠে দুটি প্রধান শাখা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে।
ফুলের বন্যা ও শোভা
গাছটির প্রতিটি শাখায় পাতার ফাঁকে প্রদীপের মতো জ্বলছে বরুণের ফুলগুলো, সারা গাছ জুড়ে ফুলের তরঙ্গ ও মেলা চলছে। শাখা থেকে আছড়ে পড়ছে ফুলের ঢেউ, আর গাছের নিচে ঘাসের বুকে টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে পাপড়ি। সকালের মৃদু হাওয়া ও মেঘে নাটার রঙের মতো মিঠে রোদ এই দৃশ্যকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে।
হাওরপারে বরুণগাছের প্রাচুর্য
সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলার কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায়ও বেশ কিছু বরুণগাছের দেখা মিলেছে, যা হাওরপারের প্রকৃতিকে সুন্দর ও মায়াবী করে রেখেছে। যদিও এক সময় হাওরপারে বরুণগাছের প্রাচুর্য ছিল, এখন তা কিছুটা কমে গেছে, তবুও অনেক গাছ টিকে আছে। জলাভূমি এলাকাই বরুণগাছের প্রিয় আবাস, যেখানে এটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে।
বরুণগাছের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
বরুণগাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়, সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। এর ফুলের মুক্ত পাপড়ি ৪টি, পুংকেশর ২০ থেকে ২৫টি, এবং ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। গ্রামবাংলায় এটি ‘গ্রীষ্মের বনফুল’ হিসেবে পরিচিত, এবং প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ গাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাঁচা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া যায়, এবং বীজ ও শিকড় থেকে চারা তৈরি হয়।
বরুণের আদি আবাস ভারত, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এবং এটি জলাভূমির কাছেই ভালোভাবে টিকে থাকে। শহরের ভেতর এমন গাছের দেখা পাওয়া এখন বিরল, যা এই দৃশ্যকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।



