ঈদে সালামির বদলে গাছের চারা: সিরাজগঞ্জে শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব উপহার
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ঈদুল ফিতরের আনন্দে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে। প্রচলিত সালামি বা টাকার বদলে এবার শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অভিনব আয়োজন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার উদ্যোগে অনুষ্ঠান
শনিবার (২১ মার্চ) কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট শেখপাড়া এলাকায় 'পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা' সংগঠনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এতে প্রায় ৫০ শিশু অংশগ্রহণ করে এবং প্রত্যেককে দেবদারু গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাহবুবুল ইসলাম (পলাশ) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন, যিনি পেশায় একজন ব্যাংকার এবং এলাকায় পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে।
মাহবুবুল ইসলাম ২০২২ সালে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন এবং কৃষি খাতে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি বলেন, "ঈদের সালামি মানেই টাকা—এই প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা শিশুদের হাতে পরিবেশবান্ধব উপহার তুলে দিতে চেয়েছি।" তার মতে, গাছ কেবল একটি উপহার নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার প্রতীকও বটে।
শিশুদের উচ্ছ্বাস ও পরিবেশের বার্তা
এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ জানায়, গাছ পেয়ে সে অত্যন্ত খুশি এবং ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ দেখতে চায়। আরেক শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলে, "গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। এই গাছ আমি বাড়ির আঙিনায় লাগাব।" তাদের এই প্রতিক্রিয়া উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
মাহবুবুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, প্রত্যেক নাগরিকের অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো উচিত। তিনি নিজেও ঈদের দিন একটি বিরল প্রজাতির 'বুদ্ধা নারিকেল' গাছ রোপণ করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
উদ্যোক্তারা মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি শুধু ঈদের আনন্দই বাড়ায়নি, বরং শিশুদের মধ্যে প্রকৃতি সংরক্ষণের মূল্যবোধও জাগ্রত করেছে। এই কার্যক্রম স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



