ঈদের সালামি হিসেবে শিশুদের গাছের চারা, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির অভিনব উদ্যোগ
ঈদে শিশুদের গাছের চারা, পরিবেশ সচেতনতার অভিনব উদ্যোগ

ঈদের সালামি হিসেবে শিশুদের গাছের চারা, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির অভিনব উদ্যোগ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে এবার একটি অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায়। প্রচলিত অর্থের সালামির পরিবর্তে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবেশবান্ধব গাছের চারা। আজ শনিবার দুপুরে কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট শেখপাড়া এলাকায় 'পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা'র আয়োজনে এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

৫০ শিশুর হাতে দেবদারু গাছের চারা

অনুষ্ঠানে ৫০ জন শিশুশিক্ষার্থীকে একটি করে দেবদারু গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে পরিবেশপ্রেমী মাহবুবুল ইসলাম (পলাশ) এর দূরদর্শী চিন্তা। তিনি 'পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা'র প্রতিষ্ঠাতা এবং বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। এলাকায় তিনি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে সুপরিচিত।

মাহবুবুল ইসলাম ২০২২ সালে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার (সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান) এবং কৃষিতে জাতীয় পুরস্কার (১৪২৬ বাংলা সন) অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, 'এবার প্রচলিত অর্থের সালামির পরিবর্তে শিশুদের হাতে একটি করে পরিবেশবান্ধব গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদ সালামি মানেই টাকা; কিন্তু সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাছ: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা

মাহবুবুল ইসলাম আরও ব্যাখ্যা করেন, 'গাছ শুধু একটি উপহার নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। একজন নাগরিকের কমপক্ষে তিনটি করে বৃক্ষ রোপণ করা উচিত।' তিনি উল্লেখ করেন যে, ঈদের দিন তিনি নিজেও বিরল প্রজাতির বুদ্ধা নারিকেলগাছ রোপণ করেছেন। তার মতে, গাছ মহান আল্লাহতায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত এবং গাছপালা ছাড়া পৃথিবী প্রাণহীন হয়ে পড়বে। একটি অঞ্চলে যত বেশি গাছ থাকে, সেই অঞ্চল তত বেশি জীবন্ত ও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের প্রতিক্রিয়া: গাছ পেয়ে খুশি

এই অভিনব উদ্যোগে শিশুরাও বেশ উৎসাহিত হয়েছে। 'পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা'র শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ জানায়, 'গাছ পেয়ে সে খুশি। আগামী ঈদেও টাকার পরিবর্তে গাছের চারা উপহার চায়।' অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলে, 'গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। ঈদের দিন গাছ পেয়ে খুশি হয়েছি। এটি বাড়ির আঙিনায় রোপণ করব।'

এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি উৎসবের আনন্দই নয়, বরং এটি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার এই প্রচেষ্টা সারাদেশে অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে ঈদের মতো উৎসবকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।