ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, তবুও বায়ুদূষণে শীর্ষ দশে রাজধানী
ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন রাজধানীতে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষ। এর ফলে ঢাকা শহর এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। যানবাহনের দাপট এবং কলকারখানার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকায় বায়ুদূষণের দুটি প্রধান উৎস কমে গেলেও, আজ শনিবার বিশ্বের ১২১টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান দশম স্থানে রয়েছে।
বায়ুমানের হালনাগাদ তথ্য
আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা। এই নগরীর বায়ুমান ১৭৩ রেকর্ড করা হয়েছে, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, ঢাকার সার্বিক বায়ুর মান আজ ১১৭, যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে চিহ্নিত। এই গোষ্ঠীর মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং শিশুরা অন্তর্ভুক্ত।
গত কয়েক মাসের দূষণের চিত্র
গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রায় পুরো সময় জুড়ে ঢাকা বায়ুদূষণে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছিল। মার্চ মাসের শুরুতেও এই প্রবণতার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। উল্লেখ্য, গতকাল রাজধানীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিণতি
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, এই দূষণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতির কারণ হয়েছে।
নগরবাসীর জন্য সুরক্ষা পরামর্শ
আইকিউএয়ারের নির্দেশিকা অনুসারে, বর্তমান বায়ুমানের অবস্থায় সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের বাইরে বের হলে মাস্ক পরা অত্যাবশ্যক। এছাড়া, বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার এবং ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



