দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা থেকে জানা গেছে গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে, যেখানে ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখের বেশি।
মূলধনের অভাব প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত
শুমারিতে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে ব্যবসা পরিচালনায় তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো মূলধনের অভাব। অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে এমন কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্যবসা পরিচালিত হয়।
মোটাদাগে আট ধরনের সমস্যা চিহ্নিত
অর্থনৈতিক শুমারিতে উঠে এসেছে যে এ দেশে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মোটাদাগে আট ধরনের সমস্যায় পড়েন উদ্যোক্তারা। সমস্যাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে মূলধনের অভাব। এ ছাড়া অন্য সমস্যাগুলো হলো:
- সহজে ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা
- দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব
- কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা
- উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
- পণ্য বিপণনের সমস্যা
- পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, এমন প্রতিষ্ঠান বা পরিবার পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুচরা ও পাইকারি খাত শীর্ষে
দেশের সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট হলো খুচরা ও পাইকারি খাতে। এই খাতেই মোট অর্থনৈতিক ইউনিট প্রায় ৪৯ লাখ। এরপরের দুটি স্থানে আছে যথাক্রমে পরিবহন খাত এবং অন্যান্য সেবা খাত। সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারি অনুসারে, ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। তাতে বোঝা যায়, গত এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে তিন কোটির বেশি মানুষ কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক শুমারির ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, একটি দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রমাণনির্ভরতা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের উন্নয়নদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে তথ্য–উপাত্তনির্ভর পরিকল্পনা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রমুখ। শুমারির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিএসের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।



