বিএনপির 'ফ্যামিলি কার্ড' উদ্বোধন ১০ মার্চ, ৬৫০০ পরিবার পাবে মাসিক ২৫০০ টাকা
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন ১০ মার্চ, মাসিক ২৫০০ টাকা সহায়তা

বিএনপি সরকার চালু করতে যাচ্ছে 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখবেন। তারা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন।

বাজেট ও বণ্টন পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকা। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রি, কমিটির সম্মানী, স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি 'সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড'-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সহায়তা

কর্মসূচির আওতায় নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধান বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

দর্শন ও উদ্দেশ্য

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করা হচ্ছে। 'ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক' এই ধারণাকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের এলাকা

পাইলট প্রকল্পের জন্য দেশের যেসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে— তার মধ্যে রয়েছে:

  • ঢাকার বনানী এলাকার কড়াইল বস্তি
  • রাজবাড়ীর পাংশা
  • চট্টগ্রামের পটিয়া
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর
  • বান্দরবানের লামা
  • খুলনার খালিশপুর
  • ভোলার চরফ্যাশন
  • সুনামগঞ্জের দিরাই
  • কিশোরগঞ্জের ভৈরব
  • বগুড়া সদর
  • নাটোরের লালপুর
  • ঠাকুরগাঁও সদর
  • দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ

এই কর্মসূচি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।