বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ২২ ক্যারেটের ভরিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ
স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ২২ ক্যারেটের ভরিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা

বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ২২ ক্যারেটের ভরিতে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং বুধবারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত শনিবারের পর সোমবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি বেড়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকায় দাঁড়িয়েছিল। গত সপ্তাহে দুবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, সেবার দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়েছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এবার এক দফায় দাম বেড়েছে ৪ হাজার টাকার বেশি, যা বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছর ও গত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। এই তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায়, স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা ক্রমাগত ঘটছে এবং এটি অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

রুপার দামেও বৃদ্ধি

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি এবার রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ১৭৩ টাকায়। এছাড়া, অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে:

  • ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৬ হাজার ৮৮২ টাকা
  • ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৫ হাজার ৮৯০ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা: ৪ হাজার ৪৩২ টাকা

এই দামগুলো বর্তমানে বাজারে কার্যকর রয়েছে এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ভবিষ্যতে আরও সমন্বয় হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।