সংরক্ষিত নারী আসনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাভিত্তিক মনোনয়নের জোরালো দাবি
রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত নারী আসনে স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়া, যোগ্যতাভিত্তিক মানদণ্ড এবং নারী নেতৃত্বের বাস্তবিক ক্ষমতায়নের দাবি তুলেছে ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। সম্প্রতি দলীয় প্রধানদের উদ্দেশে প্রদত্ত এক খোলা চিঠিতে এই ফোরামটি তাদের মূল দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।
লিখিত নীতিমালা ও জবাবদিহিতার আহ্বান
ফোরামের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জরুরি অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংরক্ষিত নারী আসন নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত না হলে তা কেবলমাত্র ‘সংখ্যাগত’ উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ থেকে যায়, ‘ক্ষমতায়নের’ দিকটি উপেক্ষিত থাকে।
সরাসরি নির্বাচন ও সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী
ফোরামের দাবি অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ আসনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় লিখিত মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নারী নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে নারী নেত্রীদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র, সাংগঠনিক পদ এবং সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নেতৃত্বের সুযোগ সুনিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনি পরিবেশে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি ও সহিংসতা রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রেক্ষাপটে সুপারিশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ফোরামটি কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- মনোনয়ন প্রক্রিয়ার লিখিত নীতিমালা প্রকাশ করা
- চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ব্যাখ্যা জনসমক্ষে উপস্থাপন করা
- যোগ্যতাভিত্তিক মানদণ্ড অনুসরণ করা
যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জনআস্থা ও নৈতিক অবস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা ও প্রশিক্ষণ
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নারীদের অর্থবহ সদস্যপদ নিশ্চিত করা, কমিটির সভাপতি বা উপ-সভাপতির দায়িত্বে নারীদের সুযোগ প্রদান এবং সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল পর্যালোচনা ও বাজেট আলোচনায় নারী এমপিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদীয় কার্যপ্রণালি, বিল বিশ্লেষণ, বাজেট ও কমিটি-ওয়ার্ক বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও হয়রানি মোকাবিলায় দলীয় প্রোটোকল চালুর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ফোরামের চূড়ান্ত অনুরোধ ও সমর্থন
চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে উত্থাপিত সুপারিশগুলোর বিষয়ে লিখিত বা প্রকাশ্য অবস্থান জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। এই খোলা চিঠিতে বিভিন্ন নারী সংগঠন, নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষে স্বাক্ষর করেছে কুষ্টিয়া নারী সমাজ, গণসাক্ষরতা অভিযান, দুর্বার নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন, নাগরিক কোয়ালিশন, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র (নউক), নারী সংহতি, নারীপক্ষ, নারীর ডাকে রাজনীতি, ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স অফ বাংলাদেশ (ফ্যাব), বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও ভয়েস ফর রিফর্মসহ একাধিক সংগঠন।
