প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের সতর্কবার্তা: অন্যায়কারী আইনের আওতায় আনতেই হবে
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের সতর্কবার্তা: অন্যায়কারী আইনের আওতায় আনতেই হবে

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের কঠোর অবস্থান: অন্যায় সহ্য করা হবে না

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেবেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, 'আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ যদি আমার নাম নিয়ে অন্যায় করে, আমি আপনাদের (আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) এই মঞ্চ থেকে অনুমতি দিচ্ছি এবং অনুরোধ করছি, তাকে আমার পাশ থেকে তুলে নিয়ে যাবেন। কারণ, কোনোভাবেই কোনো পরিস্থিতিতেই আমি অন্যায় সহ্য করব না, সরকারও সহ্য করবে না।'

প্রথম জেলা সফরে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নাটোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম জেলা সফর। বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এবং পুলিশ সুপার এম এ ওয়াহাব তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। পরে সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে পরিচিত হন ও মতবিনিময় করেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন আরও বলেন, 'অন্যায়কারী শুধু অপরাধী, তার দল বা মতের কোনো গুরুত্ব নেই। আইনের আওতায় আনতেই হবে।' তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারের নীতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর রয়েছে এবং এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এটি সর্বজনীন একটি প্রকল্প। সমাজের সব স্তরের বয়স্ক নারীরা পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পাবেন। এই প্রকল্প পরীক্ষামূলকভাবে ১০ মার্চ শুরু হবে। প্রথমে ১৪টি জেলার ১টি উপজেলার ১টি ইউনিয়নের ১টি ওয়ার্ডের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের এ কার্ড দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবার এ কার্ডের সুবিধা ভোগ করবে। এমনকি আমি ডিসি মহোদয়ও এই কার্ড পাব।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে আরও কিছু সরকারি সুবিধা চালু আছে। ফ্যামিলি কার্ড নিতে হলে অন্য সুবিধাভোগীদের যেকোনো একটি সুবিধা নিতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করবে। এখানে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগানোর সুযোগ নেই।'

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নিম্নবিত্ত ও বয়স্ক নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সমগ্র দেশের প্রতিটি পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, 'এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে চাই এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে চাই।'

প্রতিমন্ত্রীর এই সফরটি নাটোর জেলার উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি জেলার চাহিদা ও সমস্যাগুলো সরাসরি জানতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।