বগুড়ায় ঈদ সামনে রেখে অস্বাস্থ্যকর লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা
বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় অনুমোদনহীন কারখানায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই উৎপাদনের রমরমা কারবার চলছে। এসব কারখানার নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযানে দুটি কারখানায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
অভিযানে উন্মোচিত ভয়াবহ দৃশ্য
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, আলিফ লাচ্ছা সেমাই কারখানায় পায়ে মাড়িয়ে খামির তৈরি করা হচ্ছিল। কারখানার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধময়। উৎপাদিত সেমাই শৌচাগারের পাশেই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যেখানে মাছি উড়ছিল এবং শ্রমিকদের ঘাম ঝরছিল। বেশিরভাগ শ্রমিকের হাতে দস্তানা ছিল না, যদিও কেউ কেউ মুখে মাস্ক ব্যবহার করছিলেন।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “কারখানায় গিয়ে আমরা দেখি, খামির তৈরি থেকে উৎপাদন ও প্যাকেজিং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই অস্বাস্থ্যকর। বিএসটিআই সনদ না থাকায় এখানে মান নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।” এই অপরাধের জন্য কারখানার মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং আনুমানিক ১০০ কেজি ময়দার খামির জব্দ করা হয়।
অন্য কারখানায়ও একই চিত্র
অভিযানের শিকার অন্য কারখানা মেসার্স মজিদ ফুড প্রোডাক্টসের শাহ লাচ্ছা সেমাই কারখানারও প্রায় একই অবস্থা ছিল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে এই কারখানার মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযান
এটি বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর লাচ্ছা সেমাই উৎপাদনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক অভিযানের অংশ। গতকাল সোমবার বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অনুমোদনহীন ছয়টি কারখানায় আলাদা অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করে।
এর আগে গত রোববার শেরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকায় নাহিদ অ্যান্ড নাদিম ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক লাখ টাকা জরিমানা করে। গত বৃহস্পতিবার কাহালু উপজেলার শেখাহার সেমাইপল্লিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র্যাব ও জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিককে পোড়া তেল ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
ঈদের আগে বাজারে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক অনুমোদনহীন কারখানা দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়েছে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান চলমান থাকলেও অনেক কারখানা এখনও আইনের ফাঁক গলে অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
