বগুড়ার সেমাই কারখানায় পায়ের ছাপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন অব্যাহত
বগুড়ার সেমাই কারখানায় পায়ের ছাপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

বগুড়ার সেমাই কারখানায় পায়ের ছাপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন অব্যাহত

বগুড়ার কাহালু উপজেলার শেখাহার বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই কারখানায় পায়ে মাড়িয়ে খামির তৈরি, পোড়া তেল ব্যবহার এবং টয়লেটের পাশের দুর্গন্ধময় স্থানে সংরক্ষণের মতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের চিত্র ধরা পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই কারখানার মালিক সাজ্জাদ হোসেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন

শেখাহার বাজারের লাচ্ছাপল্লি নামে পরিচিত এলাকায় শতাধিক সেমাই কারখানা রয়েছে, যেখানে ঈদ সামনে রেখে কয়েক মাস ধরে উৎপাদনের তোড়জোড় চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পুরো মৌসুমে এখানে কয়েক হাজার টন লাচ্ছা সেমাই তৈরি হয়, যার বাজারমূল্য ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। দেশের নামিদামি অনেক খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখান থেকে সেমাই কিনে নিজস্ব প্যাকেটে বাজারজাত করে, যদিও বেশির ভাগ কারখানার বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই।

ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা পাকা মেঝের ওপর ময়দা ঢেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে খামির তৈরি করছেন, কোনো পলিথিন বিছানো নেই। খামিরে মাছি ভনভন করছে, এবং কারিগরদের ঘাম পড়ছে। উৎপাদিত সেমাই টয়লেটের পাশের দুর্গন্ধময় জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের কারও কারও মুখে মাস্ক থাকলেও হাতে দস্তানা নেই, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কারখানামালিকদের টনক নড়ে না। চলতি রমজান মাসে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১০টি লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে বেশির ভাগ কারখানায় পায়ে মাড়িয়ে খামির করার প্রমাণ মিলেছে। চার থেকে পাঁচটি কারখানার মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বগুড়া শহরের আটাপাড়ার ইসলামিয়া লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে এক লাখ টাকা এবং বৃন্দাবনপাড়ার জেমি লাচ্ছা সেমাই কারখানাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন, পোড়া তেল ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন রং ব্যবহারের দায়ে।

কারখানার মালিকের বক্তব্য ও অন্যান্য এলাকার চিত্র

ভাই ভাই লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, তিনি বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নিয়েই কারখানায় লাচ্ছা উৎপাদন করছেন। তবে শেখাহার বাজারের বেশির ভাগ কারখানার অবস্থা একই রকম, যেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের পাশাপাশি পোড়া তেল, মবিল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

একই চিত্র বগুড়া শহরের আটাপাড়া, বৃন্দাবন পাড়া এবং উপকণ্ঠের বেজোড়া, ঘাটপাড়া, শেওলাগাতি, কালিসামাটি, শ্যামবাড়িয়াসহ চিকন সেমাইপল্লির কারখানাগুলোর। এসব স্থানেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান অভিযানের পর বলেন, কারখানায় পায়ে মাড়িয়ে খামির তৈরি, পোড়া তেল ব্যবহার এবং টয়লেটের পাশে সংরক্ষণের মতো অনিয়ম ধরা পড়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।