গাইবান্ধা জেলায় নদীভাঙনের কারণে ২০০টিরও বেশি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে গত কয়েকদিনে জেলার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ২০০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০টি বাড়ি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীভাঙনে প্রায় ১০০০ একর কৃষিজমি নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, "আমাদের বাড়ি নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা কী করব? সরকারের কাছে সাহায্য চাই।" আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, "আমাদের সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।"
প্রশাসনের ব্যবস্থা
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়েছি এবং খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেছি। নদীভাঙনরোধে জরুরি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।"
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গাইবান্ধা জেলা নদীভাঙনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। প্রতি বছর বর্ষায় এখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, "আমরা দ্রুত তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাব।"



