অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা এখন অনেকের। বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে সময়ের আগেই চুলে সাদা ছোপ দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা ঢাকতে অনেকেই রাসায়নিক হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন। তবে এসব ডাইয়ে থাকা অ্যামোনিয়া, প্যারাবেন ও অন্যান্য রাসায়নিক দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়ার ঝুঁকিও থাকে।
প্রাকৃতিক উপাদানের বিকল্প
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তুলনামূলক নিরাপদভাবে চুলে রং আনা সম্ভব। যদিও এসব প্রাকৃতিক ডাইয়ের রং স্থায়ী নয়, তবে নিয়মিত ব্যবহারে চুলে সুন্দর প্রাকৃতিক আভা ফুটে ওঠে।
হালকা বার্গান্ডি বা লালচে আভা
হালকা বার্গান্ডি বা লালচে আভা পেতে একটি মাঝারি আকারের বিটরুটের রসের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল বা আর্গান অয়েল মিশিয়ে চুলে লাগানো যেতে পারে। এক ঘণ্টা পর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে ধীরে ধীরে চুলে লালচে আভা দেখা দিতে পারে।
গাঢ় কালো রং
গাঢ় কালো রং চাইলে আমলকি গুঁড়া, মেহেদি, ও সামান্য কফির মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পেস্ট ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চুলে রেখে ধুয়ে ফেললে নিয়মিত ব্যবহারে কালো আভা ফুটে উঠতে পারে।
প্রাকৃতিক গাঢ় খয়েরি রং
অন্যদিকে প্রাকৃতিক গাঢ় খয়েরি রং পেতে কফি মেশানো পানি দিয়ে মেহেদির পেস্ট তৈরি করে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে চুলে ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেললে চুলে খয়েরি আভা আসে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
তবে প্রাকৃতিক উপাদান হলেও প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। পাশাপাশি ভালো ফল পেতে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধু প্রাকৃতিক ডাই নয়, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত পরিচর্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।



