প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বলেছেন, সরকার কৃষিকে প্রথাগত ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য একটি ফিচারসমৃদ্ধ ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য কৃষি খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিকীকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে প্রথাগত, শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতাসক্ষম ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে বিস্তৃত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রিমোট সেনসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস), স্যাটেলাইট ডেটা, বিগ ডেটা এবং অন্যান্য উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি।
এই প্রযুক্তিগুলো ফসলের স্বাস্থ্য ও ফলন পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ এবং উৎপাদন পরিকল্পনাকে আরও বৈজ্ঞানিক ও দক্ষ করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্ভুল কৃষি ও ‘খামারি অ্যাপ’
তারিক রহমান বলেন, সরকার নির্ভুল কৃষি (প্রিসিশন এগ্রিকালচার) চালু করার পরিকল্পনা করছে, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও ডেটাভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়াবে।
প্রধানমন্ত্রী ‘খামারি অ্যাপ’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। এই অ্যাপটি কৃষকদের বিভিন্ন অঞ্চল ও মৌসুমের জন্য উপযুক্ত ফসল, সারের প্রয়োজনীয়তা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ রিয়েল টাইমে প্রদান করবে।
তিনি বলেন, “খামারি অ্যাপ কৃষকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং উৎপাদন ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।”
টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল, বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে, যাতে ভারসাম্যপূর্ণ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হয়।



