জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এয়ার ইন্ডিয়া ফুয়েল সারচার্জ বাড়াচ্ছে
জ্বালানি মূল্যের বড় ধরনের ব্যবধানে বৃদ্ধির কারণে এয়ার ইন্ডিয়া অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে ধাপে ধাপে ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে জেট ফুয়েলের দাম বিশ্বব্যাপী প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৮৫–৯০ ডলার থেকে ১৫০–২০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সের পদক্ষেপ
এয়ার ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্টাস, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার এসএএস এবং নিউ জিল্যান্ডের এয়ার নিউজিল্যান্ডের মতো অন্যান্য এয়ারলাইন্সও ভাড়া বাড়িয়েছে বা অস্থায়ী সারচার্জ আরোপ করেছে। এই আর্থিক চাপ যাত্রীদের ওপর স্থানান্তরিত হচ্ছে, যা ভ্রমণ খরচ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের পরিস্থিতি ও বিশেষ প্রভাব
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের পরিস্থিতিতে এই চাপ আরও বেড়েছে উচ্চ শুল্ক এবং মূল্যের উপর ভ্যাটের কারণে, বিশেষ করে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে। এই বিষয়গুলো অপারেটিং খরচে বড় প্রভাব ফেলছে, যা এয়ারলাইন্সকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। হংকং এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে যে তারা জ্বালানি সারচার্জ সর্বোচ্চ ৩৫.২% পর্যন্ত বাড়াবে, যা বৈশ্বিক প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে।
ফুয়েল সারচার্জের তিনটি পর্যায়
নতুন ফুয়েল সারচার্জ তিনটি পর্যায়ে চালু হবে এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসসহ সব ফ্লাইটে প্রযোজ্য হবে। প্রথম পর্যায় ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে, দেশীয় ও সার্ক রুটে ৩৯৯ রুপি, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার রুটে ১০ ডলার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রুটে ৪০ থেকে ৬০ ডলার, আফ্রিকা রুটে ৬০ থেকে ৯০ ডলার এবং সিঙ্গাপুর থেকে ফ্লাইটে নতুন ফুয়েল চার্জ আরোপ করা হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ মার্চ থেকে ইউরোপের দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ১০০ থেকে ১২৫ ডলার এবং উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার রুটে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার সারচার্জ বৃদ্ধি করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে হংকং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ দূরবর্তী পূর্বের রুটে সারচার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য বাড়তি খরচের সূচনা করবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "আমরা দুঃখিত, এই ধরনের ফুয়েল সারচার্জ বাড়ানোর জন্য। তবে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বিষয়গুলোর কারণে প্রয়োজনীয়। না হলে কিছু ফ্লাইট চালানো সম্ভব হতো না।" এই সিদ্ধান্তটি জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রতিফলন, যা ভ্রমণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
