যুক্তরাষ্ট্রে রাকুনের দৌরাত্ম্য: অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে ময়লা ছড়ানো, অসুস্থ শিশুর মা আতঙ্কিত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটির বাসিন্দা আলেক্সাস হাবার্ড সম্প্রতি নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস শুরু করেছেন। তবে মাত্র এক মাসও না পেরোতেই তিনি একটি অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সপ্তাহখানেক ধরে তিনি রাতের বেলা সিলিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনছিলেন। পাশাপাশি, প্রতিদিনই কেউ একজন তার লিভিংরুমে ময়লা ও আবর্জনা ছড়িয়ে রেখে যাচ্ছিল।
রহস্যের সমাধান: সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল রাকুন
এই ঘটনাগুলো হাবার্ডকে ক্রমশ আতঙ্কিত করে তুলছিল। তিনি বারবার চেষ্টা করেও বুঝতে পারছিলেন না কেন এমন হচ্ছে। রাতের খুটখাট শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে শব্দটি রান্নাঘর থেকেই বেশি আসছে। এরপর তিনি রান্নাঘরে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে অপরাধীটি—একটি রাকুন।
হাবার্ড জানান, তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শব্দ পাওয়া শুরু করেন। ১ মার্চ ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, রান্নাঘরের কাপবোর্ডের একটি ফুটো দিয়ে রাকুনটি তার ওয়েস্টউডের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করছে। এই চারপেয়ে প্রাণীটি প্রতিদিনই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে নানা ধরনের উৎপাত করছে। কখনো আবর্জনা নিয়ে আসছে, কখনো ময়লা রাখার ঝুড়ি থেকে ময়লা বের করে চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে, আবার কখনো বাড়িঘর তছনছ করে রাখছে।
সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
রাকুনের এই দৌরাত্ম্যে হাবার্ড সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তার ছেলেকে নিয়ে। তার ছেলে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত, যা একটি গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা। এই অবস্থায় শিশুর মস্তিষ্কের পূর্ণ বিকাশের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হলে শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। হাবার্ডের ছেলে হাঁটতে পারে না এবং হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করে। ঘরের ভেতরই সে ঘোরাঘুরি করে, বাইরে যেতে পারে না।
হাবার্ড উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জানি না, রাকুনটির কারণে মেঝেতে কী কী জীবাণু ছড়িয়েছে। এটি আমার ছেলের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’ এই পরিস্থিতিতে তিনি বাড়ির মালিককে অভিযোগ জানানোর পর রাকুনটিকে ধরতে ফাঁদ পাতা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাকুনের আগের ঘটনা
গত বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডের সময় আরেকটি রাকুন একটি বাড়িতে ঢুকে বোতল খুলে মদ্যপান করে মাতাল হয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়েছিল। এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয় যে শহুরে পরিবেশেও বন্য প্রাণীরা কীভাবে মানুষের জীবনযাপনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে রাকুনের মতো প্রাণীরা প্রায়ই আবাসিক এলাকায় ঢুকে সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এই প্রাণীরা মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে। আলেক্সাস হাবার্ডের ঘটনাটি এই ধরনের সমস্যার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
