ঈদুল ফিতরে জাতীয় ঈদগাহে ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি
জাতীয় ঈদগাহে ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত

ঈদুল ফিতরে জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক নামাজ, ৪০ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এই মহান ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজের ইমাতি করেন এবং খুতবা দেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।

শনিবার সকালের ঐক্যবদ্ধ নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত

শনিবার (২১ মার্চ) সকালে নামাজ শেষে মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানান এবং আহত ও নিহতদের জন্য দোয়া করেন।

নামাজ শেষে মুফতি আবদুল মালেক সারা বিশ্বে ফিতনা-ফ্যাসাদ বন্ধের জন্য দোয়া করেন এবং মুসলমানদের ঐক্য কামনা করেন। তখন মুসল্লিরা আমিন-আমিন ধ্বনি দেন, যা পুরো ঈদগাহে প্রতিধ্বনিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশেষ প্রার্থনা

মোনাজাতে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, "হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করুন। যুদ্ধবিগ্রহ থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দিন।" তিনি অসহায় মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, "হে আল্লাহ মজলুমদের জুলুম থেকে আমাদের হেফাজত করুন। জালিমদের শাস্তি দিন। আপনি মজলুমদের সবচেয়ে উত্তম অভিভাবক। মানুষের মধ্যে আপনি তাদের জন্য অভিভাবক তৈরি করে দিন, প্রতিনিধি তৈরি করে দিন।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুসলিম দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা করে। পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন আক্রান্ত হচ্ছে ওই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশ, যেগুলো সবই মুসলিমপ্রধান দেশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঈদ উদযাপনের সময়সূচি ও রমজানের শিক্ষা

শুক্রবার (২০ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। শাওয়ালের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একদিন পর, অর্থাৎ শনিবার ঈদ উদযাপন করা হয়।

নামাজের আগে আলোচনায় মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রমজানের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করতে হবে

এই বিশাল সমাবেশে মুসল্লিরা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন, যা ঈদের প্রকৃত চেতনাকে প্রতিফলিত করে। জাতীয় ঈদগাহের এই অনুষ্ঠান দেশের ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।