ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় জামাত সম্পন্ন, বায়তুল মোকাররমে কয়েক হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণ
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার, ২১ মার্চ সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকি নদভী। নামাজ শেষে জাতির কল্যাণে দীর্ঘ সময়ের মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, যা মুসল্লিদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
প্রথম জামাত ও মুসল্লিদের উপস্থিতি
এর আগে, সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমানের ইমামতিতে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় জামাতে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন, যারা নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে ঈদের আনন্দ ও আধ্যাত্মিকতা উপভোগ করেন, যা এই পবিত্র দিনের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
দোয়া ও মোনাজাতের বিশেষ দিক
দ্বিতীয় জামাত শেষে দোয়া ও মোনাজাতে আল্লাহর কাছে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া ছাড়াও দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ কামনা করা হয়। দেশের উপর যেসব বালা-মুসিবত রয়েছে, তা থেকে বেঁচে থাকতে মহান আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া, মোনাজাতে রমজান মাসের রোজা ও অন্যান্য এবাদত যাতে আল্লাহ কবুল করেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে আর্তি জানানো হয়। মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জন্যও জান্নাত কামনা করা হয়, যা মুসল্লিদের হৃদয়ে শান্তি ও সান্ত্বনা বয়ে আনে।
এসময় মুসল্লির অনেকেই চোখের জলে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে দেখা গেছে, যা এই আধ্যাত্মিক মুহূর্তের গভীরতা প্রকাশ করে। মোনাজাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিপীড়িত মুসলমানদের হেফাজতের জন্যও দোয়া করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সহমর্মিতার প্রতিফলন ঘটায়।
পরবর্তী জামাতের সময়সূচি ও ইমামদের তালিকা
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ঈদের পরবর্তী জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে। তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন। চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। পঞ্চম ও শেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতির দায়িত্বে থাকবেন।
এছাড়া, বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন, যা জামাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। এই সময়সূচি মুসল্লিদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছে, যাতে তারা ঈদের দিনে নামাজ আদায় করতে পারেন।



