ঈদের নামাজে রাকাত ছুটে গেলে করণীয়: ইসলামিক নির্দেশনা
ঈদের নামাজে রাকাত ছুটে গেলে করণীয়

ঈদের নামাজে রাকাত ছুটে গেলে করণীয়: ইসলামিক নির্দেশনা

ঈদের দিনের প্রধান আমল হলো দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ, যা আদায়ের মধ্য দিয়ে ঈদের দিনটি শুরু হয়। তবে অন্য ফরয নামাজের মতো ঈদের নামাজেও রাকাত ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা অনেকের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এই প্রতিবেদনে ইসলামিক ফিকহের আলোকে রাকাত ছুটে গেলে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।

বিলম্বে এসে ইমামকে প্রথম রাকাতের কেরাতে পাওয়া

যদি কেউ বিলম্বে এসে ইমামকে প্রথম রাকাতের কেরাতে পায়, তাহলে প্রথমে তিনি তাকবিরে তাহরিমা এবং অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলে ইমামের অনুসরণ করবেন। এটি ইসলামিক সূত্র মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৫৭১৪ অনুযায়ী নির্দেশিত হয়েছে।

ইমামকে রুকুতে পাওয়ার পর করণীয়

দেরিতে এসে কেউ ইমামকে রুকুতে পেলে, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে ইমামকে রুকুতে ধরতে পারার সম্ভাবনা থাকলে তাই করবে। কিন্তু দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবির বলে ইমামকে রুকুতে না পাওয়ার আশঙ্কা হলে শুধু তাকবিরে তাহরিমা বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে হাত না উঠিয়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলবে এবং সময় থাকলে রুকুর তাসবিহ পড়বে। এটি আলবাহরুর রায়েক: ১/১৬১ গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় রাকাতে এসে ইমামের সাথে শরীক হওয়া

কেউ দ্বিতীয় রাকাতে এসে ইমামের সাথে শরীক হলে, ইমাম সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা ও কেরাত পড়বে এবং রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তাকবির বলবে। এই পদ্ধতি মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৮১৩ অনুসারে নির্ধারিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় রাকাতের রুকু বা তাশাহুদের পর জামাতে শরীক হওয়া

যদি কেউ দ্বিতীয় রাকাতের রুকু বা তাশাহুদের পর জামাতে শরীক হয়, তাহলে ইমাম সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে প্রথমে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে এরপর সূরা কেরাত পড়ে রুকু সিজদা করবে। এভাবে তার প্রথম রাকাত পূর্ণ হবে। প্রথম রাকাতের পর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে সূরা কেরাত পড়বে, এরপর অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে রুকু সেজদা আদায় করে নামাজ শেষ করবে। এটি ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৫ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

রাকাত ছুটে যাওয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক

ঈদের নামাজের রাকাত ছুটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর ঘটনা, যা ব্যক্তিকে কষ্ট দিতে পারে এবং সারা মাসের ইবাদত কবুল হয়েছে কিনা এমন সংশয়ে ভোগাতে পারে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, ঈদের নামাজের রাকাত ছুটে যাওয়া সাথে সারা মাসের ইবাদত কবুল হওয়া বা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ তাআলা সকল রোজাদারকে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সৌরভে সিক্ত করুন।