১ / ১০: ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতার গড়পার রোডের বিখ্যাত বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। তাঁর মায়ের আদরের নাম ছিল ‘মানিক’, কিন্তু বাবার পছন্দ না হওয়ায় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সত্যজিৎ’। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবা সুকুমার রায়ের মৃত্যু হয়। বাবাকে তিনি চিনতে পেরেছিলেন তাঁর লেখা ও কাজের মাধ্যমে। শৈশব কেটেছে মা সুপ্রভা রায়ের সান্নিধ্যে।
শিক্ষাজীবন ও শান্তিনিকেতন
২ / ১০: ৯ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হন সত্যজিৎ। বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার পর মায়ের ইচ্ছায় শান্তিনিকেতনে যান। প্রথমে কলকাতা ছেড়ে যেতে না চাইলেও শান্তিনিকেতনের দিনগুলো তাঁর চোখ খুলে দেয়। তিনি নিজেই পরে স্বীকার করেছিলেন যে শান্তিনিকেতনই তাঁর দৃষ্টি দান করেছিল।
শিল্পীজীবনের সূচনা
৩ / ১০: ছবি আঁকায় পারদর্শী ছিলেন সত্যজিৎ। স্কুলের আঁকার শিক্ষকের প্রিয়পাত্র হলেও প্রথাগত আঁকা শেখেননি। শান্তিনিকেতনে বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের কাছে শিল্পীজীবনের সূচনা হয়। ‘দ্য ইনার আই’ ছিল গুরু প্রতি শিষ্যের কৃতজ্ঞতার নিদর্শন।
প্রথম চাকরি ও বিজ্ঞাপনী সংস্থা
৪ / ১০: ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থায় ভিজ্যুয়ালাইজার হিসেবে প্রথম চাকরি করেন, বেতন ছিল ৮০ টাকা। সৃষ্টিশীলতা ও উপার্জনের ভারসাম্য রেখে কয়েক বছর চাকরি করেন। সিগনেট প্রেসের চাকরি তাঁর জীবনে নতুন দরজা খুলে দেয়, যেখানে বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকার কাজ ছিল।
বইয়ের প্রচ্ছদ ও চলচ্চিত্রের ভাবনা
৫ / ১০: সত্যজিতের হাতে রূপ পায় জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ ও ‘রূপসী বাংলা’র চিত্রণ। এঁকেছিলেন জিম করবেটের ‘ম্যান ইটার্স অব কুমায়ুন’ এবং জওহরলাল নেহরুর ‘ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’র বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদ। ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘আম–আঁটির ভেঁপু’ বইয়ের প্রচ্ছদও এঁকেছিলেন। ‘আম–আঁটির ভেঁপু’ কিশোর সংস্করণের প্রচ্ছদ আঁকতে গিয়ে মূল উপন্যাসটি পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম হয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের নতুন যুগের। তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নিয়ে ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণ
৬ / ১০: চিত্রনাট্য লেখা, কুশীলব নির্বাচন, শুটিং শুরু হলেও অর্থসংকটে পড়েন সত্যজিৎ। নিজের সঞ্চয়, স্ত্রী বিজয়ার অলংকার বিক্রি করেও সংকট মেটেনি। শেষে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় ‘পথের পাঁচালী’।
জঁ রেনোয়া ও ‘বাইসিকল থিফ’
৭ / ১০: জঁ রেনোয়ার সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন সত্যজিৎ। রেনোয়ার উৎসাহ ও ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাইসিকল থিফ’ ছিল তাঁর অনুঘটক। ‘পথের পাঁচালী’র পর ‘অপরাজিত’, ‘পরশ পাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘অপুর সংসার’, ‘দেবী’, ‘তিন কন্যা’—একের পর এক অসাধারণ ছবি উপহার দেন তিনি।
রবীন্দ্রশতবর্ষ ও ‘সন্দেশ’ পত্রিকা
৮ / ১০: ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শতবর্ষ উপলক্ষে পরিচালনা করেন ‘তিন কন্যা’ এবং তথ্যচিত্র ‘রবীন্দ্রনাথ’। তাঁর একাকী শৈশব যেন মিলেমিশে গিয়েছিল জীবনস্মৃতির শিশুর সঙ্গে। ছয়ের দশকে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে ‘সন্দেশ’ পত্রিকার হাল ধরেন, যা সুকুমার রায়ের মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পত্রিকাটি নতুন করে প্রকাশিত হতে শুরু করে এবং তিনি লেখালেখিও শুরু করেন।
লেখালেখি ও চলচ্চিত্রের মেলবন্ধন
৯ / ১০: লেখালেখি শুরু হওয়ার পর সত্যজিতের ক্যামেরা ও কলম মিশে যায়। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর শুটিংয়ে রাজস্থান গিয়ে ‘সোনার কেল্লা’র প্লট জন্ম নেয়। তাঁর ছবির উপজীব্য হয়েছে পরশুরাম, প্রেমেন্দ্র মিত্রর কাহিনি। সেলুলয়েডে বন্দী হয়েছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কলম। ছবির পাশাপাশি তাঁর তথ্যচিত্রের সম্ভারও সমৃদ্ধ।
মৃত্যু ও অস্কার
১০ / ১০: ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান সত্যজিৎ রায়। তবে মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গ্রহণ করেন সম্মানসূচক অস্কার পুরস্কার।



