গ্রিনরুমে জেমসের আড্ডা, মঞ্চে সম্মাননা—এমনই এক সন্ধ্যা কাটল নগরবাউল জেমসের। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৭তম আসর। এ আয়োজনে ব্যান্ডসংগীতের এই তারকাকে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের জন্য বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। ঘণ্টা দেড়েকের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জেমস।
গ্রিনরুমে আগমন ও আড্ডা
সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ভেন্যুতে পৌঁছান নগরবাউল জেমস। কালো টি-শার্ট ও মাথায় পরিচিত গামছা পরে তিনি সরাসরি গ্রিনরুমে যান। রুমে ঢুকে এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা নিয়ে মজা করে বলেন, ‘এ তো সাইবেরিয়াতে চলে এলাম।’ এরই মধ্যে আশপাশ থেকে ব্যান্ডের বাকি সদস্যরাও রুমে ঢোকেন। তারাও বলেন, ‘ঠান্ডায় জমে গেছি ভাই। তাই হেঁটে এলাম।’ পরে ব্যান্ডের সদস্যদের কাছে খবর নিয়ে চেয়ার টেনে বসে পড়েন আড্ডায়।
নানা প্রসঙ্গে আড্ডা
মঞ্চের বাইরে পর্দায় জেমস যতটা মিতভাষী, এ দিন আড্ডায় তিনি ছিলেন তার উল্টো। দেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, তেলসংকট—সবকিছুই উঠে এসেছে তাঁর আড্ডায়। গাড়ির প্রতি জেমসের ভালোবাসা আছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নতুন মডেলের গাড়ির খবরও তাঁর কাছে থাকে। এদিন ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়েও আলাপ জমান জেমস। তিনি বলেন, ‘একসময় দেশেও ইলেকট্রিক গাড়িতে সয়লাব হবে, তেল-গ্যাসপাম্পে থাকবে চার্জিং স্টেশন’—বলে হো হো করে হেসে ওঠেন।
মঞ্চ প্রস্তুতি ও খাবার
আড্ডার মধ্যেও নগরবাউলের মাথায় ছিল মঞ্চে ওঠার তাড়া। গিটারিস্ট ইসমামুল ফরহাদ এলিনকে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, সব ঠিকঠাক কি না। ইসমামুল জানান, সব ঠিক। সাউন্ড চেক হয়ে গেছে। মঞ্চে গেলেই হয়ে যাবে। এরই মধ্যে ব্ল্যাক কফি, স্যান্ডউইচ আর কেক খান জেমস। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কিছু জানতে চান। মঞ্চে এখন কী হচ্ছে, আর কতক্ষণ পর উঠতে হবে, দর্শক কেমন এসেছে—এসব জানতে আগ্রহী ছিলেন তিনি।
কনসার্টের বাইরে আয়োজন এড়িয়ে চলেন কেন?
সাধারণত কনসার্ট ছাড়া কোনো আয়োজনে পাওয়া যায় না জেমসকে। জানতে চাওয়া হয় কেন কনসার্টের বাইরে আয়োজন এড়িয়ে চলেন তিনি। নগরবাউলের স্বভাবসুলভ ছোট উত্তর, ‘যাই না আরকি’।
মঞ্চে পারফরম্যান্স ও সম্মাননা
হঠাৎ ডাক পড়ে মঞ্চ থেকে। ‘মঞ্চ তৈরি, এখনই উঠতে হবে’—শুনে মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনকে নিয়ে হাঁটা দেন জেমস। মঞ্চে তখন তাঁর জনপ্রিয় তিন গানে পারফর্ম করছিলেন শুভ, কিশোর ও ইমরান। মঞ্চের পেছনে বসে শুনছিলেন নগরবাউল। ইমরানের গানের পরেই মঞ্চে ওঠেন জেমস। চারদিকে তখন দর্শকের শিস-করতালি। সাউন্ডটা একটু চেক করে আগত দর্শকদের শুভসন্ধ্যা জানান তিনি। এরপরই দরাজ কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন, ‘সুন্দরীতমা আমার/ তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে/ বলতে পারো/ এই আকাশ আমার।’ জেমসের পরিবেশনার পরই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মেরিল-প্রথম আলোকে ধন্যবাদ দিয়ে জেমস বলেন, ‘অর্ধেক হয়েছে, আরও অর্ধেক বাকি আছে।’
মঞ্চ থেকে প্রস্থান
মঞ্চ থেকে নামার সময় সম্মাননা স্মারকের ওজন নিয়ে খুনসুটি করেন জেমস। বলেন, ‘ওজন তো ভালোই।’ নিচে তখন অপেক্ষায় ছিলেন ইমরান, শুভ ও কিশোর। ছবির আবদার মিটিয়ে পিঠ চাপড়ে দেন জেমস, সেলফিও উঠে কিছু। এরপর ভেন্যু থেকে বেরিয়ে সোজা গাড়িতে করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি।



