বাংলাদেশের অন্যতম ওটিটি প্লাটফর্ম চরকির বয়স হলো পাঁচ। ২০২১ সালের আজকের দিনে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের জনপ্রিয় এ ওটিটি প্ল্যাটফর্মটি। এ সময়ের মধ্যে চরকির সঙ্গে ‘সাত নাম্বার ফ্লোর’, ‘টান’, ‘নিঃশ্বাস’, ‘আমলনামা’, ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’–এর মতো কাজ করেছেন জনপ্রিয় পরিচালক রায়হান রাফী। চরকির পাঁচ বছর উপলক্ষে তিনি লিখেছেন অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা।
প্রচলিত নিয়মকে প্রশ্ন করার সাহস
রায়হান রাফী বলেন, 'আমি সব সময় বিশ্বাস করি, একটা ইন্ডাস্ট্রি বদলে যায় তখনই, যখন কেউ প্রচলিত নিয়মগুলোকে প্রশ্ন করার সাহস দেখায়। চরকি আমার কাছে সেই সাহসেরই আরেকটি নাম।' একজন নির্মাতা হিসেবে তিনি শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম খোঁজেন না, বরং এমন একটি জায়গা খোঁজেন যেখানে গল্পকে সত্যিকার অর্থে গুরুত্ব দেওয়া হয়। চরকির সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি সেই জায়গাটাই খুঁজে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
সংলাপ ও সৃজনশীল সাহসের সমন্বয়
রাফী বলেন, 'মতের অমিল হয়েছে, তর্ক হয়েছে, আবার নতুন কিছু করার আগ্রহও দেখেছি। আমার কাছে এই সংলাপটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভালো কনটেন্ট কখনও একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে তৈরি হয় না; এটি বিশ্বাস, আলোচনা আর সৃজনশীল সাহসের সমন্বয়ে জন্ম নেয়।'
দর্শকের দেখার অভ্যাস বদলে দেওয়া
গত পাঁচ বছরে চরকি শুধু কয়েকটি সফল সিরিজ বা সিনেমা তৈরি করেনি; তারা দর্শকের দেখার অভ্যাস বদলে দিয়েছে। রাফীর মতে, 'তারা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের দর্শক শুধু বিনোদন খোঁজে না, তারা ভালো গল্পও খোঁজে। এমন গল্প, যা পরিচিত বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায়, কখনও অস্বস্তিতে ফেলে, আবার কখনও গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। আমার কাছে এটিই চরকির সবচেয়ে বড় অর্জন।'
নির্মাতাদের প্রতি বিশ্বাসের সংস্কৃতি
তিনি বিশ্বাস করেন, একটি ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সে তার নির্মাতাদের কতটা বিশ্বাস করে, তার ওপর। 'একজন নির্মাতাকে বিশ্বাস করা মানে শুধু একটি প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা নয়; তার কল্পনাশক্তি, তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার গল্প বলার ভঙ্গির ওপর আস্থা রাখা। এই বিশ্বাসের সংস্কৃতিই আগামী দিনের বাংলা কনটেন্টকে আরও শক্তিশালী করবে।'
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গল্প
রাফী প্রত্যাশা করেন, আগামী পাঁচ বছরে চরকি শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধিদের একটি হয়ে উঠুক। 'আমাদের গল্প, আমাদের ভাষা, আমাদের মানুষ—এসবের মধ্যেই এমন অসংখ্য সিনেমা ও সিরিজ লুকিয়ে আছে, যা পৃথিবীর যেকোনো দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার সময় এখনই।'
নতুন নির্মাতাদের জন্য সুযোগ
তিনি আরও গুরুত্ব দেন নতুন নির্মাতা, নতুন লেখক, নতুন সিনেমাটোগ্রাফার, নতুন অভিনেতাদের জন্য আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করার ওপর। 'একটি সুস্থ ইন্ডাস্ট্রি তখনই গড়ে ওঠে, যখন প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি নতুন কণ্ঠগুলোও সমান গুরুত্ব পায়। আগামী দিনে চরকি সেই ভূমিকা আরও বড় পরিসরে পালন করবে—এই বিশ্বাস আমার আছে।'
শেষ কথা
পাঁচ বছর কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য খুব দীর্ঘ সময় নয়। কিন্তু এই অল্প সময়েই চরকি দেখিয়েছে, সাহস থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। রাফী বলেন, 'আমার শুভেচ্ছার চেয়েও বড় জিনিস হলো আমার প্রত্যাশা। কারণ আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী গল্পগুলো এখনও বলা বাকি। আর সেই গল্পগুলো বলার যাত্রায় চরকি আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হয়ে উঠুক—এই কামনাই রইল।'



