ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাচরা ইউনিয়নে ৫ বছরের এক শিশুকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে স্কুল ছুটির পর এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
ঘটনার বিবরণ
অভিযুক্ত যুবকের নাম নয়ন (১৫)। তিনি স্থানীয় নূরনবী ও কমলা দম্পতির ছেলে এবং একটি মাদ্রাসার ছাত্র। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। শনিবার সকালে স্কুল ছুটির পর শিশুটি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে একটি দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিল। এ সময় দোকান বন্ধ থাকায় ভাই অন্য কাজে ব্যস্ত হলে অভিযুক্ত নয়ন শিশুটিকে ‘মজা’ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে স্কুলের নিচে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে শিশুটির চিৎকারে তার বড় ভাই ও স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্ত নয়ন পালিয়ে স্কুলের টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে তার মা এসে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ
ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী শরিফ হাওলাদার ও অলি হাওলাদার মিলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে এবং সমঝোতা করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া
ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আরাফাত রহমান জানান, শিশুটি শনিবার দিবাগত রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ টেস্টের নমুনা পাঠানো হবে। হাসপাতালের সেবকরা জানিয়েছেন, শিশুটি প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং ব্যথার কারণে শরীরে কাউকে হাত দিতে দিচ্ছে না।
তজুমদ্দিন থানার ওসি জানান, এটি মূলত ধর্ষণের চেষ্টা ছিল। ৫ বছরের ভুক্তভোগী শিশু এবং ১৫ বছরের অভিযুক্ত ছেলেটি একই এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে হাসপাতালে থাকায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়নি, তবে তারা হাসপাতাল থেকে ফিরলেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ।



