জার্মান ভ্লগারের ছবিতে বিরাট কোহলির লাইক নিয়ে আমিশা প্যাটেলের সরব প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমের নেটিজেনদের মধ্যে ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির একটি লাইক নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি এক জার্মান ভ্লগার তার একটি গ্ল্যামারাস ছবি পোস্ট করলে, সেখানে কোহলির লাইক দেওয়া নজর কাড়ে অনলাইন ব্যবহারকারীদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন নেট দুনিয়ায় ট্রলিং ও আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের প্রতিক্রিয়া যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
নেটিজেনদের গোয়েন্দাগিরি ও আমিশার হস্তক্ষেপ
সামাজিক মাধ্যমে বিরাট কোহলি কী করছেন, কাকে ফলো করছেন বা কার ছবিতে লাইক দিচ্ছেন, তা নিয়ে গোয়েন্দাগিরি করা নেটিজেনদের একটি পুরনো অভ্যাস। এর আগেও তার বিভিন্ন পোস্ট বা লাইক নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো এই জার্মান ভ্লগার এবং আমিশা প্যাটেলের বিশেষ মন্তব্য। নেটিজেনরা মজা করে প্রশ্ন তুলেছেন, "বিরাট ভাই, আনুশকা ভাবি কি সব জানেন?" এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আমিশা প্যাটেল আসরে নামেন এবং তার প্রতিক্রিয়া কোহলির লাইকের চেয়েও বেশি ভাইরাল হয়ে যায়।
আমিশা প্যাটেলের স্পষ্ট বক্তব্য
এই বিতর্কিত মুহূর্তে আমিশা প্যাটেল একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, যা নেটদুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি অনেকটা মজার ছলেই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহ একটু বেশিই। বিরাটের হয়ে সওয়াল করে অভিনেত্রী বলেন, "লাইক করা কি কোনো পাপ? এটা তার জীবন, তার ইনস্টাগ্রাম এবং তার ইচ্ছা। মানুষের কাজই হলো শুধু ট্রল করা। তাদের কি আর কোনো কাজ নেই?"
তিনি আরও যোগ করেন, কারও কাজ ভালো লাগলে তাতে লাইক দিয়ে প্রশংসা করা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। আমিশার মতে, "কারও ভালো কাজকে লাইক করা ভালো ব্যাপার। আসলে ট্রল করাটাই হলো আসল পাপ, কাউকে লাইক করা নয়।" তার এই সোজাসাপ্টা মন্তব্য এখন সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং অনেক নেটিজেন বলছেন, সেলিব্রিটিদেরও যে একটা ব্যক্তিগত জগত থাকতে পারে, আমিশা সেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
বিতর্কের দুই দিক
বিরাটের এই ছোট পদক্ষেপটি ঘিরে একদিকে যখন ট্রলিং চলছে, অন্যদিকে আনুশকা শর্মার ভক্তরাও বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। আমিশা প্যাটেলের এই প্রতিক্রিয়া দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বলছেন, "বিনোদন জগতের মানুষরাই যদি ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে মন্তব্য করেন, তবে সাধারণ মানুষের দোষ কোথায়?" তবে আমিশা অবশ্য পুরো বিষয়টিকেই অত্যন্ত হালকা এবং রসিকতার ছলে দেখেছেন। তার মন্তব্যে সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন ও ট্রলারদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার একটি বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার ও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। আমিশা প্যাটেলের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের কণ্ঠস্বর এই বিতর্কে একটি ভারসাম্য আনতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।



