বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনের জীবনে এক কঠিন অধ্যায়ের কথা উঠে এসেছে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে। অবিবাহিত অবস্থায় কন্যাসন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার ব্যক্তিগত ম্যানেজার পর্যন্ত তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত
সুস্মিতা সেন মাত্র ২৪ বছর বয়সে বড় মেয়ে রেনেকে দত্তক নেন। তখন তার ম্যানেজার মনে করেছিলেন, তিনি আর ক্যারিয়ার নিয়ে সিরিয়াস নন। অভিনেত্রী বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার ক্যারিয়ার নিয়ে একেবারেই সিরিয়াস নও। ২৪ বছর বয়সে মা হয়ে যাওয়া একজন মানুষের সঙ্গে আমি কাজ করতে পারব না। তুমি আর কোনোদিন কাজ পাবে না।’
ম্যানেজারের মন্তব্যে দৃঢ়তা
তবে সেই মন্তব্যে ভেঙে না পড়ে উল্টো নিজের সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় হন সুস্মিতা। তিনি বলেন, ম্যানেজার চলে যাওয়ার পর তার মনে হয়েছিল, যা হয়েছে তা ভালোই হয়েছে। তার দাবি, মা হওয়ার পরই তিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সিনেমাগুলো উপহার দিয়েছেন দর্শকদের।
অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে, মা হওয়ার পরই আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হিট ছবিগুলো করেছি।’ সমাজের কটাক্ষ, অপমান এবং নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হলেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি তিনি। তার মতে, জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মা হওয়ার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প
সুস্মিতা বলেন, ‘আমার কোনো গডফাদার ছিল না। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ আমাকে কোনো সুযোগ করে দেয়নি। নিজের চেষ্টাতেই সব অর্জন করেছি।’ তিনি আরও জানান, যারা তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে সমাজের অনেক নিয়মই মানুষের তৈরি, তাই অন্যের মতামতের চেয়ে নিজের বিশ্বাসকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় সন্তান দত্তক
বড় মেয়ে রেনেকে দত্তক নেওয়ার পর ২০১০ সালে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান আলিশাকেও দত্তক নেন সুস্মিতা সেন। অভিনেত্রীর মতে, তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দুই মেয়েকে একটি সুন্দর শৈশব উপহার দিতে পারা।



