আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২৭তম আসর। অনুষ্ঠানের বড় চমক ছিলেন নগরবাউল জেমস। ব্যান্ডসংগীতের এই তারকা চার দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রশিল্পে অবদান রেখে চলেছেন। সংগীতে ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেমসের হাতে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। এরপর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জেমস কথা বলেন নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গে।
জেমসের প্রতিক্রিয়া
জেমস বলেন, ‘অর্ধেক হয়েছে, আরও অর্ধেক বাকি আছে। ধন্যবাদ মেরিল প্রথম আলোকে।’ এর আগে জেমসের গাওয়া জনপ্রিয় তিন গানে সম্মাননা দেন এ প্রজন্মের তরুণ তিন গায়ক শুভ, কিশোর ও ইমরান। প্রথমেই ‘মা’ গানটি পরিবেশন করেন ডি রকস্টার শুভ। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় হলরুম। শুভর পরই জেমসের আরেক বিখ্যাত ‘বাবা’ গান নিয়ে আসেন সংগীতশিল্পী কিশোর। দর্শকসারির সবাই একসঙ্গে গলা মেলান, ‘এত রক্তের সাথে রক্তের টান/ স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে/ হঠাৎ অজানা ঝড়ে তোমায় হারালাম/ মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল/ বাবা কত দিন, কত দিন দেখি না তোমায়/ কেউ বলে না তোমার মতো/ কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়’।
ইমরানের পরিবেশনা
শেষ গান নিয়ে হাজির হন সংগীতশিল্পী ইমরান। ‘আসবার কালে আসলাম একা’ গান যেন ইমরানকে গাইতেই হয়নি। দর্শকসারির কে গলা মেলাননি। পুরো গানটিতে এ গায়ককে সঙ্গ দিয়েছেন দর্শকেরা।
নগরবাউলের চমক
তিনজনের গান পরিবেশনের পর কি চমক অপেক্ষা করছিল, তা যেন দর্শকেরা চিন্তাও করতে পারেননি। স্টেজের আলো নিভে যায়, শুধু শোনা যাচ্ছিল একটা অতিচেনা গিটার ইন্ট্রো। আস্তে আস্তে অন্ধকার ভেদ করে গিটার হাতে ধরা দেন নগরবাউল। দর্শকসারিতে বসা তারকারাও নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। একজন আরেকজনকে মঞ্চের দিকে আঙুল দিয়ে বলছিলেন, ‘আরে, এ তো গুরু’।
এরপরই দরাজ কণ্ঠে জেমস গেয়ে ওঠেন, ‘সুন্দরীতমা আমার/ তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে/ বলতে পারো/ এই আকাশ আমার’। সাধারণত অন্য সময় মঞ্চে যেভাবে পারফর্ম করেন জেমস, এটি ছিল যেন তার থেকে আলাদা। ড্রামস, কি–বোর্ড ছিল না এদিন মঞ্চে। গিটারের সঙ্গে খঞ্জনি আর দর্শকের করতালি। নগরবাউলের এ পারফরম্যান্স অনেক দিন মনে থাকবে উপস্থিত শ্রোতাদের।



