ফুটবলের ভয়ংকর মেশিন থেকে ইন্টারনেটের প্রিয় ‘বেবিগার্ল’
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার আর্লিং হাল্যান্ড ফুটবলের এক দুর্দান্ত ও ভীতিকর শক্তির নাম, যার শারীরিক গঠন এবং প্রতিভা—দুইয়ের সামনেই অন্যান্য ফুটবলারদের বেশ ছোট দেখায়। চলতি বিশ্বকাপের শনিবারের ম্যাচ পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭ গোল করা নরওয়ের এই তারকা ফুটবলারকে অনেকেই মাঠের এক ‘মেশিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কিন্তু তার কিছু অনুগত নতুন ভক্তদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলবে— তিনি আসলে একজন ‘বেবিগার্ল’ ও ‘রাজকুমারী’।
ইতিমধ্যেই তাকে অনুসরণ করা শুরু করেছে জীবনে ফুটবল না দেখা মানুষ। মজছেন তার প্রেমে। কেউ সৌন্দর্যে কেউ পায়ের জাদুতে। তাদেরই একজন নিউইয়র্কের বেসবল কনটেন্ট ক্রিয়েটর সারাহ উইলসন। তিনি ফুটবল ফলো করা শুরু করেছেন একেবারেই নতুন। তবে গত এক মাসেই তিনি ফুটবলের এত বড় ভক্ত হয়ে উঠেছেন যে, তার নতুন প্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি কেনার জন্য রীতিমতো লম্বা এক অভিযানে নেমে পড়েছেন।
ভক্তদের ভালোবাসা ও ইন্টারনেট ট্রেন্ড
৩১ বছর বয়সী উইলসন এখন ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে বলেন, “আমি আর্লিং হাল্যান্ডকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। একই সঙ্গে এমন সুন্দর নরওয়েজিয়ান রাজকুমারী হওয়া এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হওয়াটা কীভাবে সম্ভব, তা আমি ভাবতেই পারি না।”
হাল্যান্ড এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক তুমুল জনপ্রিয় ট্রেন্ড। তার নিজের করা পোস্ট এবং তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া মিম ফুটবল দুনিয়ার বাইরের সাধারণ মানুষদেরও তার অন্ধ ভক্তে পরিণত করছে। মাঠের সেই বিধ্বংসী শারীরিক রূপের সাথে ইন্টারনেটে তার বোকাটে ও মজার ব্যক্তিত্বের এই বৈপরীত্যই মূলত এই উন্মাদনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তরা মেতে আছেন তার বাতাসে ওড়া সোনালী চুল, কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরা হেয়ার ব্যান্ড, আর স্ন্যাপচ্যাটের ফিল্টার ব্যবহার করে দেওয়া সেলফি নিয়ে— যেখানে তিনি রসিকতা করে অ্যানিমেশন চরিত্র ‘শ্রেক’-কে নিজের ‘যমজ ভাই’ বলে দাবি করেছিলেন। মাঠে তার শক্তি ও দক্ষতার সঙ্গে মাঠের বাইরে তার এই কোমল ও প্রাণবন্ত রূপের বৈপরীত্যই ইন্টারনেট দুনিয়ায় তাকে ‘বেবিগার্ল’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
‘বেবিগার্ল’ উপাধির অর্থ ও কারণ
সাধারণত ভক্তরা সেসব পুরুষ তারকা বা চরিত্রের ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার করেন, যারা স্বভাবগতভাবে কিছুটা সংবেদনশীল, যত্নশীল বা কোমল মনের হন। প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে আর্লিং হালান্ড ইতিমধ্যেই যে তুমুল জনপ্রিয়তার অধিকারী ছিলেন, বর্তমান ক্রেজ তাকে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে যাচ্ছে। উইলসন মনে করেন, এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তার অনন্য ফুটবল প্রতিভা এবং খামখেয়ালী বা অদ্ভুত ব্যক্তিত্বের মেলবন্ধন।
উইলসন বলেন, “তার অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিভা— এটাই সবকিছুর প্রথম ভিত্তি। আর এরপর যখন আপনি জানবেন যে তার বয়স মাত্র ২৫ বছর এবং সে সম্ভবত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিখুঁত ‘জেন জি’ ক্রীড়াবিদ, তখনই বিষয়টি অন্য মাত্রা পায়।”
হাল্যান্ডের ইন্টারনেট ব্যবহার ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে তিনি হাল্যান্ডের স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার এবং ইন্টারনেটে মজাদার ফিল্টার দিয়ে ছবি পোস্ট করার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, “অনেকেই ভাবছেন, ‘ওয়াও, আমি এই ছেলেটাকে পছন্দ করি, ও ভীষণ মজার। এখন থেকে ওই আমার নতুন প্রিয় খেলোয়াড়’—ঠিক যেভাবে আমি তার ভক্ত হয়েছি।”
মাঠে হাল্যান্ডের নানারকম অভিব্যক্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এবং তার ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন ইতিমধ্যেই শত শত মিমের জন্ম দিয়েছে। হালান্ড নিজেও ইন্টারনেটের এই ভাইরাল হওয়াকে বেশ উপভোগ করছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে মজার সব সেলফি পোস্ট করছেন, ইউটিউবে বড় ফরম্যাটের ভ্লগ আপলোড করছেন এবং তার পাবলিক স্ন্যাপচ্যাট স্টোরিতে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন— যেখানে প্রায়শই তাকে নিজেকে নিয়ে মজা করতে দেখা যায়।



