বিজয় ও রাশমিকার বাডিমুন: বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ডে মধুচন্দ্রিমা
দক্ষিণ ভারতের আলোচিত তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেছেন। এরপর চলতি মাসে থাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপে তাদের মধুচন্দ্রিমার ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে এই ভ্রমণটি প্রচলিত হানিমুন নয়, বরং বাডিমুন হিসেবে পরিচিত। কারণ, এতে কেবল নবদম্পতি নন, তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও সঙ্গী হয়েছিলেন।
কো সামুই দ্বীপে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দময় সময়
বিয়ের পর ৪ মার্চ হায়দরাবাদে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা শেষ করে বিজয় ও রাশমিকা সরাসরি থাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে একটি সমুদ্রতীরবর্তী ভিলা ভাড়া নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কাটান তাদের প্রথম ভ্রমণ। এই সফরটি ছিল না শুধু ঘোরাঘুরি; বরং এটি ছিল একসঙ্গে সময় কাটানোর একটি আয়োজন—নিরিবিলি ডিনার, সমুদ্রতীরে হাঁটা, সুইমিংপুলে আড্ডা এবং গভীর রাত পর্যন্ত গল্প করা।
রাশমিকা বলেন, ‘আমাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতি তৈরি করা। যেখানে সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে পারব। ঘুরতে যাব, খেলব, পুলে আনন্দ করব, একসঙ্গে সবাই সূর্যাস্ত দেখব, নানা ধরনের খাবার খাব। যেখানে কোনো চিন্তাভাবনা থাকবে না।’ বিজয়ও একসময় জানিয়েছিলেন, তিনি একা একা থাকার মানুষ নন, চিরকাল লোকজন নিয়ে থাকতেই ভালোবাসেন।
বাডিমুন: নতুন ট্রেন্ডের ব্যাখ্যা
হানিমুনের সঙ্গে ‘বাডি’ বা বন্ধুর মিশেলে তৈরি হয়েছে ‘বাডিমুন’। এই ধারণায় নবদম্পতি তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে যান প্রথম ভ্রমণে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ:
- বিয়ের পর ক্লান্তি কাটাতে চাপমুক্ত সময় কাটানো
- বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া
- সম্পর্ককে শুধু দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর পরিসরে দেখা
এই প্রবণতা বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বিজয় ও রাশমিকার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ভ্রমণ তাদের কাছে সব সময়ই স্মৃতি তৈরির মাধ্যম, আর সেই স্মৃতিতে বন্ধুরা থাকলে তা আরও পূর্ণ হয়।
ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালেও বিজয় ও রাশমিকা নিজেদের জন্য কিছু সময় রেখেছিলেন। সে মুহূর্তগুলোতেই ধরা পড়ে তাদের সম্পর্কের গভীরতা—সহজ বোঝাপড়া, যত্ন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন। একান্ত আলাপচারিতায় তারা ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও করেছেন, যেমন বিশ্বভ্রমণ, নতুন জায়গা খোঁজা এবং একসঙ্গে জীবনকে উপভোগ করা।
রাশমিকা ও বিজয় বলেন, ‘একসঙ্গে থাকা, খেলা, সূর্যাস্ত দেখা, স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করা—সবকিছু মিলিয়ে এ অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বেশি স্বাভাবিক ও বাস্তব।’ এই বাডিমুন তাদের জন্য একটি অনন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা শুধু দুজনের নয়, বরং বন্ধুদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।



