কলার মোচার লাল অংশ দিয়ে ট্রেন থামিয়ে দিনমজুর এনামুল হকের বীরত্বপূর্ণ কীর্তি
কলার মোচা দিয়ে ট্রেন থামালেন দিনমজুর, পেলেন সম্মাননা

কলার মোচার লাল অংশ দিয়ে ট্রেন থামিয়ে দিনমজুর এনামুল হকের বীরত্বপূর্ণ কীর্তি

ভাঙা রেললাইন দেখে কলার মোচার লাল অংশ লাঠির সঙ্গে বেঁধে ট্রেন থামিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দিনমজুর এনামুল হক। এই অসাধারণ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে রেল মন্ত্রণালয় তাকে সম্মাননা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী রেল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান

অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ফরিদ আহমেদ কৃষক এনামুল হকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এ ছাড়া তাকে আর্থিক পুরস্কারও প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা দিনমজুরের দূরদর্শিতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা রেলপথে নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন দিনমজুর এনামুল হক (৬২)। সামনে এগোতেই তার চোখে পড়ে রেললাইনের প্রায় এক হাত অংশ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। তিনি দ্রুত বিষয়টি নিকটবর্তী রেলস্টেশনে জানাতে গ্রামের এক যুবককে ফোন করেন। ঠিক তখনই দেড় কিলোমিটার দূরে ট্রেনের হুইসেল বাজতে শুরু করে, যা একটি বড় দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এনামুল হক আশপাশে লাল রঙের কাপড় খুঁজতে থাকেন, কিন্তু তা না পেয়ে দৌড়ে রেললাইনের পাশের কলাক্ষেতে যান। সেখানে তড়িঘড়ি করে কলাগাছ থেকে কলার মোচা ছিঁড়ে নেন। এরপর মোচা থেকে লাল রঙের বড় খোসা খুলে লাঠির মাথায় দড়ি দিয়ে বাঁধেন। এই লাল নিশানটি উঁচু করে ধরে তিনি রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রেন থামানো ও যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া

মাত্র পাঁচ মিনিট পর দক্ষিণ দিক থেকে আসা দ্রুতগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন লাল নিশান দেখে থেমে যায়। এনামুল হকের এই বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। ট্রেনের যাত্রীরা তাকে সাধুবাদ জানাতে হাততালি দেন, যা তার সাহসিকতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির বীরত্বই নয়, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। রেল মন্ত্রণালয়ের এই সম্মাননা প্রদান সামাজিক দায়িত্ববোধকে উৎসাহিত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে আরও মানুষকে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।