হাটহাজারীতে ওরসের মেলায় হামলায় নদীতে ডুবে সাব্বিরের লাশ উদ্ধার
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় হালদা নদী থেকে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামিপাড়া ছায়ারচর এলাকা থেকে এই লাশটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। লাশটি শনাক্ত করা হয়েছে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইশকরম গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মোহাম্মদ সাব্বির হিসেবে।
ঘটনার পটভূমি
গত শনিবার রাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাটহাজারীতে একটি ওরসের মেলা থেকে নৌকায় ফেরার সময় সাব্বির ও তাঁর বন্ধুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষের সময় সাব্বির হালদা নদীতে ডুবে যান এবং নিখোঁজ হয়ে পড়েন।
নৌ পুলিশের বক্তব্য
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলী নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "ওরসের মেলায় দুই দল যুবকের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এর জেরে একটি দলের ওপর অন্য দলটি হামলা চালায়। এ সময় নদীতে ডুবে যান সাব্বির। তাঁর লাশ আজ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।" লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রামদাস মুন্সির হাটে ওরসের মেলায় দুই দল যুবকের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর মধ্য রাতে এক পক্ষ নৌকায় রাউজানে ফিরছিলেন। এ সময় নদীতে নৌকায় উঠে অন্য পক্ষ হামলা চালায়। হামলার সময় তিনজন নদীতে পড়ে যান। দুই যুবক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা যুবকেরা জানিয়েছেন, সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, যা তাঁর ডুবে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
উদ্ধার অভিযান
সাব্বির নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের অভিযান চালানো হয়েছিল। গত রোববার তোলা ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতা। অবশেষে আজ সকালে নৌ পুলিশের হস্তক্ষেপে লাশটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
