ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের চার অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু: রাবারের বোটে যাত্রার করুণ পরিণতি
লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজনের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে পরিবারের সদস্যরা এই দুঃসংবাদ পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বোটে থাকা একই উপজেলার আরেকজন যাত্রী রোহান আহমদ।
মৃতদের পরিচয় ও পরিবারের বেদনা
মারা যাওয়া চারজন হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) এবং একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)। তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া জানান, মারা যাওয়া চারজনই তার আত্মীয়।
সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া বিস্তারিত জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন এবং লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না। শনিবার বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে ওই চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রার ভয়াবহতা ও মৃত্যুর কারণ
রোহান আহমদ ফোনে জানিয়েছেন, রাবারের বোটে খাবার ও পানির সংকটের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেকেই মারা যান এবং তাদের মধ্যে এই চারজনও আছেন। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান ইউপি সদস্য শাহনূর মিয়া বলেন, রোহানই ফোনে গ্রামে চারজনের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাবারের বোটে করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেওয়া হয় এবং এ ধরনের বোটকে লোকজন গেম বলে। গেমেই তারা মারা গেছেন।
পুলিশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন রয়েছেন বলে তারাও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে কমপক্ষে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার গ্রিসের কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
এই ঘটনা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এবং মানবিক সংকটের একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গভীর শোকের মুহূর্ত, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।



