টরন্টোতে ২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে 'ভয়াল কালরাত্রি' পালন ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
টরন্টোতে ২৫ মার্চ স্মরণ ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

টরন্টোতে ২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে 'ভয়াল কালরাত্রি' পালন

কানাডার টরন্টো শহরে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াবহ গণহত্যার স্মরণে 'ভয়াল কালরাত্রি' পালন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে শহীদ মিনারে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও সম্মানের প্রকাশ হিসেবে দেখা গেছে।

মোমবাতি প্রজ্বলন ও বক্তৃতা অনুষ্ঠান

টরন্টো ফিল্ম ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ডেনফোর্থস্থ বাংলা টাউনে রাত ৯টায় মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপকভাবে অংশ নেন এবং শহীদদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেন। মনিস রফিকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফায়জুল করিম, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শওগত সাগর, হিমাদ্রী রায়, দেলওয়ার এলাহীসহ অনেকে।

'আগুন বুকে মিলিত হই আলোর মিছিলে' শীর্ষক এই আয়োজনে বক্তারা ২৫ মার্চের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানান। তারা এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এর স্বীকৃতি চান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টরন্টো ফিল্ম ফোরাম তাদের কার্যালয়ে প্রখ্যাত নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'আগুনের পরশমণি' প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। সংগঠনটি গত এক দশক ধরে মার্চ মাসজুড়ে বিভিন্ন স্মরণীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে, যা প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়া, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টরন্টো ঢাকা ক্লাবের উদ্যোগে কুইন্স পার্কে অবস্থিত অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদ ভবনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ, কাউন্সিলর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মেলবন্ধনকে প্রতিফলিত করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ হেরিটেজ মাস ও ঐতিহ্য

উল্লেখ্য, অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার ২০১৬ সালে মার্চ মাসকে 'বাংলাদেশ হেরিটেজ মাস' হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর সংসদ ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের প্রথা চালু রয়েছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয়।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস তুলে ধরতে নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস, কনস্যুলার অফিস, অন্যস্বর টরন্টো, অন্যথিয়েটার টরন্টো এবং বাংলাদেশ সেন্টার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী নেতাদের শুভেচ্ছা

এদিকে, সাবেক প্রাদেশিক সাংসদ ডলি বেগম এক বার্তায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার এই বার্তা প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে একাত্মতা ও দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

মোটকথা, টরন্টোতে ২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণ ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এই অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐতিহাসিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবোধকে শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।