কাতারপ্রবাসী সোলাইমানের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু, গ্রেপ্তার বন্ধু
প্রবাসী সোলাইমানের দুর্ঘটনায় মৃত্যু, গ্রেপ্তার বন্ধু

চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কাতারপ্রবাসীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরের ফিশারিঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ সোলাইমান (৩৭)। গত রোববার রাত ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারে এখন শোকের মাতম। তাঁর মা জাহানারা বেগম ও স্ত্রী ডলি আকতার বিলাপ করে কাঁদছেন। মা বারবার বলছিলেন, ‘তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।’

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জানা গেছে, রোববার বিকেলে সোলাইমান চট্টগ্রাম নগরের একটি সামাজিক যোগাযোগ কেন্দ্রে বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে রাতে তিনি বন্ধু রফিকুল করিমের (৩০) মোটরসাইকেলে করে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামে ফিরছিলেন। ফিশারিঘাট এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সোলাইমান মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং বন্ধু রফিকুল করিমকে আটক করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী ডলি আকতারের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের শোক ও প্রশ্ন

নিহত সোলাইমানের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামে। আজ সোমবার বেলা দেড়টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে শোকসভা বসেছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসা-যাওয়া করছেন। উত্তর পাশে সোলাইমানের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে, কিন্তু ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তখনো মর্গে রয়েছে।

সোলাইমানের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘রোববার দুপুরে ঘর থেকে বের হয়ে যায় সোলাইমান। রাতে শুনি সে মারা গেছে। বিষয়টি কীভাবে মেনে নেব? তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।’ স্ত্রী ডলি আকতারের কান্না থামানো যাচ্ছে না। তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মোটরসাইকেল যিনি চালাচ্ছিলেন, তিনি অক্ষত আছেন। পেছনে বসা মানুষটি কীভাবে মারা গেলেন? এটি রহস্যজনক।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও নিহতের পরিচয়

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক আবদুল কাদের জানান, নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় বন্ধু রফিকুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে রহস্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিহত সোলাইমানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি এক মাস আগে দেশে আসেন নির্বাচন উপলক্ষে। তিনি আনোয়ারা উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) সহপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। দেশে আসার পর বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশ নেন। আগামী ৮ এপ্রিল কাতারে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সোলাইমানের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে।