পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার ২৮.৯ শতাংশে, সাত বছরে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি
পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার সাত বছরে ৭ শতাংশ বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে বলে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল শুক্রবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যের এই ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনের ইঙ্গিত দেয়।
শহর ও গ্রামে দারিদ্র্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
নতুন তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরে দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৪ শতাংশ হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামে তা ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই প্রবণতা দেশের চারটি প্রদেশেও দেখা গেছে।
প্রদেশভিত্তিক দারিদ্র্যের হার
পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে, গত সাত বছরে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্য বেড়েছে:
- পাঞ্জাবে হার ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ হয়েছে।
- সিন্ধে ২৪.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৬ শতাংশ হয়েছে।
- খাইবার পাখতুনখোয়ায় ২৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.৩ শতাংশ হয়েছে।
- বেলুচিস্তানে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত হিসেবে হার ৪১.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে
আহসান ইকবাল আরও জানান, দারিদ্র্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রদেশগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিন গুণ বেশি হলেও দারিদ্র্য ও বৈষম্য উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে।
দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণসমূহ
দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কর্মসূচিকে দায়ী করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, রুপির অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ কর্মসূচিতে যাওয়া জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আহসান ইকবাল বলেন, ‘আমরা যদি আইএমএফে না যেতাম, দেশ দেউলিয়া হয়ে যেত।’ এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংস্কারের উপর জোর দেন তিনি, যা পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
