ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং ইরানের পাল্টা হামলার ফলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দখলদার ইসরাইলকে ‘সবচেয়ে ভারী হামলার’ মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্রে ঝুঁকতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মার্কিন উপদেষ্টার সতর্কবার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাক্স সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দাবি করেছেন, ইসরাইল নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি অনুভব করলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।’ স্যাক্স ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে উল্লেখ করেন, আগের সংঘাতে ইরান বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করলেও এবার কম সময়ের যুদ্ধেই বেশি প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান
ডেভিড স্যাক্স সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার প্রধান লক্ষ্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘এখনই বিজয় ঘোষণা করে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার ভালো সময়।’ তার মতে, যুদ্ধবিরতি বা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো জরুরি। স্যাক্স আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে টানা হামলার ফলে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
এদিকে ইসরাইলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তেল আবিব কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করার দিকে এগোচ্ছে। ইসরাইলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইসরাইল হাইওম জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে ইহুদি উৎসব পাসওভারের সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, সংঘাত শুরুর আগে যে ধারণা করা হয়েছিল, তার তুলনায় এখন ইরানের ক্ষমতাসীন ব্যবস্থাকে উৎখাত করার সম্ভাবনা অনেক কম।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোনোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
