ইরান প্রতিবেশী দেশে হামলার দায় অস্বীকার করে, 'শত্রুপক্ষ'কে অভিযুক্ত করেছে
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হলেও, ইরান এর পেছনে উল্টো 'শত্রুপক্ষ'কে অভিযুক্ত করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের উদ্ভাবিত ড্রোনের অনুকরণে তৈরি নকল ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে এর দায় ইরানের ওপর চাপানো যায়।
বিবৃতি ও অভিযোগের বিস্তারিত
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হলেও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি তেহরান। সাধারণত 'শত্রুপক্ষ' বলতে ইরান যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে নির্দেশ করে থাকে। গত দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বাহরাইনেও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রিয়াদ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ধেয়ে আসা ১০টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
নকল ড্রোনের দাবি
রোববার ইরানের দেওয়া বিবৃতিতে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছে যে ইরানের তৈরি বিখ্যাত 'শাহেদ-১৩৬' ড্রোনের হুবহু নকল সংস্করণ, যা 'লুকাস' নামে পরিচিত, তা ব্যবহার করে তুরস্ক, ইরাক এবং কুয়েতের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই নকল ড্রোনগুলো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা প্রমাণের অভাব এবং পূর্ববর্তী সংঘাতের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করছেন।



