ইরানের নতুন নেতা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, মার্কিন দাবি অস্বীকার
ইরানের নেতা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

ইরানের নতুন নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, খামেনির শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করছেন।

মার্কিন অভিযোগের জবাব

শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, "নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকাল তার বার্তা দিয়েছেন এবং তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।" তার এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে।

আগের দিন হেগসেথ দাবি করেছিলেন, তার বিশ্বাস মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত তার অঙ্গহানি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নেতার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেতার প্রথম বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন:

  • মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত শত্রুদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে
  • হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার আভাস দেওয়া হয়েছে
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন ফ্রন্ট খোলার হুঁশিয়ারি

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার প্রথম ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল তার দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে।" এই বক্তব্য ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন না আসারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

ইরানে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই নতুন নেতার দায়িত্ব গ্রহণ এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই স্পষ্টীকরণ আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা দিতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার আভাস এবং নতুন ফ্রন্ট খোলার হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা রাখে না। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র হিসেবে আলজাজিরার প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিফলিত করে। ইরানের নতুন নেতৃত্ব কীভাবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলবে।