মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকটে ১৬ দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে সংকটে শাহজালালে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকটে শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫০০ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গত ১৬ দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) একদিনেই বাতিল করা হয়েছে ২০টি ফ্লাইট, যা বিমান চলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে, যা যাত্রীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

দিনভিত্তিক ফ্লাইট বাতিলের পরিসংখ্যান

গত ১৬ দিনে ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

  • ২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১ মার্চ: ৪০টি ফ্লাইট বাতিল
  • ২ মার্চ: ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৩ মার্চ: ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৪ মার্চ: ৩২টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৫ মার্চ: ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৬ মার্চ: ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৭ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৮ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ৯ মার্চ: ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১০ মার্চ: ৩২টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১১ মার্চ: ২৭টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১২ মার্চ: ২৮টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১৩ মার্চ: ২৫টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১৪ মার্চ: ২৬টি ফ্লাইট বাতিল
  • ১৫ মার্চ: ২০টি ফ্লাইট বাতিল

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, যা বিমানবন্দরের কার্যক্রমে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও কর্তৃপক্ষের সতর্কতা

বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা পুনরায় খুলে না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি যাত্রীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া, সরকারি পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে আকাশসীমা খোলার ব্যবস্থা করার জন্য, কিন্তু এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। এই সংকট কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলছে, যা বৈশ্বিক পরিবহন নেটওয়ার্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।