বিশ্ব বাণিজ্যের প্রাণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ব্রিটেনের ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তায় ব্রিটেনের ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে ব্রিটেনের ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশের এলাকায় সম্প্রতি একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য কমাতে এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বিভিন্ন ধরনের বিকল্প’ পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের আহ্বান ও ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়া

এর আগে, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটেন এখন এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে। দ্য সানডে টাইমস প্রথমবারের মতো এই প্রস্তাবের খবর সামনে এনেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ‘মাইন অ্যান্ড থ্রেট এক্সপ্লয়েশন গ্রুপ’ থেকে এসব ড্রোন মোতায়েন করা হতে পারে, যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।

ড্রোনের সম্ভাব্য ব্যবহার ও চ্যালেঞ্জ

তবে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ড্রোন কার্যকর রয়েছে এবং এর মধ্যে কতটি মোতায়েন করা সম্ভব, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। এদিকে, দ্য সানডে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ব্রিটিশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালির অর্থনৈতিক গুরুত্ব

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্রিটেনের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব নিরাপত্তা কৌশল জোরদার করতে চাইছে, যা ইরানের সাথে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে। তবে ড্রোন মোতায়েনের সঠিক সংখ্যা ও সময়সীমা এখনো অস্পষ্ট রয়েছে, যা ভবিষ্যতের উন্নয়নের উপর নির্ভর করবে।