নেতানিয়াহুর ভিডিওতে 'এআই আঙুল' দাবি: গ্রোক বলছে 'দৃষ্টিবিভ্রম', যুদ্ধের মাঝে রহস্য ঘনীভূত
নেতানিয়াহুর ভিডিওতে 'এআই আঙুল' দাবি, গ্রোক বলছে 'দৃষ্টিবিভ্রম'

নেতানিয়াহুর ভিডিও নিয়ে এআই সন্দেহ: গ্রোকের ব্যাখ্যায় 'দৃষ্টিবিভ্রম' দাবি

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) শেয়ার করা এই ভিডিওটিতে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে বলে দাবি করছেন অনেক ব্যবহারকারী, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'এআই' এর ফল বলে সন্দেহ করছেন অনেকে। শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা ভিডিওর একটি বিশেষ অংশে অসংগতি লক্ষ্য করেন, যেখানে নেতানিয়াহুর হাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আঙুল দেখা যাচ্ছে বলে মনে হয়।

'এআই ফিঙ্গার গ্লিচ' নাকি অপটিক্যাল ইলিউশন?

অনেক ব্যবহারকারী এই ঘটনাকে 'ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ' হিসেবে অভিহিত করছেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ভিডিওতে সাধারণত দেখা যায়। তবে এক্সের (সাবেক টুইটার) এআই চ্যাটবট 'গ্রোক' এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে। গ্রোকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি মূলত ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং আলোর প্রতিফলনের কারণে তৈরি একটি 'দৃষ্টিবিভ্রম' বা অপটিক্যাল ইলিউশন। তাদের মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি হাতে পাঁচটি করেই আঙুল রয়েছে, যা অন্য সবার মতোই স্বাভাবিক।

এই বিতর্কের মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ১৬তম দিনে এসে ভিডিওটি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা এবং তার বর্তমান অবস্থান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে আবার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয়, গত ৯ মার্চের পর থেকে কোনো পোস্ট না করায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

গুজব ও সত্যতা যাচাই

এদিকে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবরটিকেও ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছড়ানো গুজব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলসহ বিভিন্ন ভেরিফায়েড সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সুস্থ ও জীবিত আছেন। একই সময়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং পুনরায় ফিরে আসার ঘটনাটি নিয়েও জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, যা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব নেতাদের অবস্থান ও ভিডিওর সত্যতা নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক ধরনের ধোঁয়াশা বিরাজ করছে। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের গুজব ছড়ানো এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, পাশাপাশি যুদ্ধকালীন সময়ে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে।