নেতানিয়াহুর ভিডিওতে ছয় আঙুল দেখে এআই গুজব, গ্রোক বলছে দৃষ্টিবিভ্রম
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সংশয় তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নেতানিয়াহু তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এই ভিডিওটি দেখে অনেক ব্যবহারকারী একটি অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করেন – নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
এআই সম্পাদনার সন্দেহ ও মৃত্যুর গুজব
ভিডিওটিতে এই অসংগতি দেখে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে সম্পাদনা করা কিনা। অনলাইনে 'ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ' শিরোনামে পোস্ট করা ভিডিওগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। অনেক ব্যবহারকারী এটিকে এআই তৈরির ভুল বলে দাবি করার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়েছেন। হিব্রু ভাষায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'হে বিবি, আপনি কি এতই বিশেষ যে আপনার ছয়টি আঙুল? নাকি আপনি অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?'
মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনসও এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'বিবি কোথায়?' এবং একটি পোস্টে লিখেছেন, 'কেন তার অফিস থেকে ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করা হচ্ছে এবং হোয়াইট হাউসে কেন এত আতঙ্ক?'
গ্রোকের ব্যাখ্যা: অপটিক্যাল ইলিউশন
এক্সের এআই চ্যাটবট গ্রোক এই সব দাবি নাকচ করে দিয়েছে। গ্রোক বলেছে, 'না, অন্য সবার মতো নেতানিয়াহুরও প্রতি হাতে পাঁচটি করে আঙুল আছে।' তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিডিওতে নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে আঙুল দিয়ে ইশারা করছিলেন। লাল বৃত্ত ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অস্বাভাবিক লাগছে। ছবিটি একটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও থেকে নেওয়া হয়েছে।
গ্রোক আরও স্পষ্ট করে বলেছে, 'নেতানিয়াহু জীবিত আছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা স্নোপস, টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যরা ভিত্তিহীন তথ্য বলে দাবি করেছে। কেবল ভেরিফায়েড সূত্রের ওপর ভরসা রাখুন।'
পটভূমি ও অন্যান্য সংশয়
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ, যা আজ শনিবার ১৫তম দিনে প্রবেশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
একই সঙ্গে 'ক্রেমলিন' নামের একটি পেজ (যার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসার ঘটনাটি উল্লেখ করেছে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের দিকেও সবার নজর পড়েছে। সচরাচর এক্সে বেশ সক্রিয় থাকলেও ইয়ার নেতানিয়াহু গত ৯ মার্চের পর আর কোনো পোস্ট শেয়ার করেননি, যা অনলাইন গুজবকে আরও উসকে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমের গুজব ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে, পাশাপাশি ভেরিফায়েড তথ্যের গুরুত্বকেও সামনে এনেছে।
