জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচন ২ জুন
জাতিসংঘ সভাপতি পদে বাংলাদেশের লড়াই, নির্বাচন ২ জুন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে আলোচনায় থাকা ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা এই নির্বাচনকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায়, তার পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।

নির্বাচনের সময়সূচি ও আঞ্চলিক আবর্তন নীতি

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অফ স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও অতীতের সাফল্য

৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফিলিস্তিনের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ। প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের পাশাপাশি এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক শক্তির একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে পারে, যা দেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।