মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে ফ্রান্সের ক্ষোভ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের কারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারোর মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন দূতাবাসের একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট এই বিবাদের সূত্রপাত ঘটায়, যেখানে ফ্রান্সে সহিংসতা বৃদ্ধির দাবি করা হয়।
বিতর্কের সূচনা ও ফরাসি প্রতিক্রিয়া
মার্কিন রাষ্ট্রদূত কুশনার তার বক্তব্যে দাবি করেন যে ফ্রান্সে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফরাসি কর্তৃপক্ষ ভালোভাবে নেয়নি। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর অবস্থান নেয়। সোমবার সন্ধ্যায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ কুশনারকে তলব করে, কিন্তু তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে নিজে না গিয়ে একজন ডেপুটিকে পাঠান।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে ফরাসি মন্ত্রীদের দেখা করার অনুমতি বন্ধ করে দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে কুশনার রাষ্ট্রদূত মিশনের মৌলিক বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সরকারি যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
সমাধানের পথে অগ্রগতি
উত্তেজনার পরিস্থিতিতে কিছুটা নরম হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে টেলিফোন আলোচনা হয়, যেখানে উভয় পক্ষ আগামী দিনে সরাসরি বৈঠকের জন্য সম্মত হয়েছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত কুশনার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দলের একজন সদস্য মিডিয়াকে জানান, ‘ফ্রান্স তৃতীয় কোনো দেশের কাছ থেকে তার জাতীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারে না, এবং রাষ্ট্রদূত বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন।’ এই আলোচনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু না বললেও, উভয় পক্ষ সমঝোতার দিকে এগোচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পটভূমি: কোয়েন্টিন ডেরাঙ্ক হত্যাকাণ্ড
এই কূটনৈতিক বিরোধের পেছনে রয়েছে ২৩ বছর বয়সী গণিতের শিক্ষার্থী কোয়েন্টিন ডেরাঙ্কের হত্যাকাণ্ড। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি লিওঁতে মুখোশধারী দলের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। ফ্রান্সের মধ্য-ডানপন্থী সরকার এই হামলার জন্য ‘অতি-বাম’ জঙ্গিদের দায়ী করেন।
মার্কিন দূতাবাসের পোস্টে এই ট্র্যাজেডি নিয়ে মন্তব্য করা হয়, যেখানে সহিংস বামপন্থী চরমপন্থা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ‘এটি একটি ফরাসি পরিবারকে শোকে ডুবিয়েছে।’
সোমবার তলবের জবাব না দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, কিন্তু মঙ্গলবারের আলোচনা আশার আলো দেখাচ্ছে। ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, যদিও ভবিষ্যতে এ ধরনের বিবাদ এড়াতে উভয় পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
