ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মুক্তির জন্য জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক আবেদন
ভেনেজুয়েলা সরকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। গত জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হওয়ার পর থেকে মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কে বিচারাধীন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে জোরালো দাবি
সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তির জরুরি দাবি জানান। তিনি মার্কিন বাহিনীর অবৈধ সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, এই অপহরণের ফলে ভেনেজুয়েলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
মাদুরোর অবস্থান ও অভিযোগ
নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের মাদকপাচার সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী চক্র পরিচালনার অজুহাতে তাকে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে অপহরণ করে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে স্থানান্তরিত করেছে।
কূটনৈতিক পথ ও ভেনেজুয়েলার পদক্ষেপ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিল উল্লেখ করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা ও পারমাণবিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর প্রযুক্তিগত ও সামরিক বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও কারাকাস মতপার্থক্য মেটাতে একটি কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলা অতীতের ক্ষত স্বীকার, ক্ষমা এবং পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গিল ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত একটি নতুন সাধারণ ক্ষমা আইনের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ পুনর্মিলন প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এই আবেদন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
