ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেও ধর্মীয় স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে হামলা চালিয়েছে। তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে আগুন দিয়েছে, যা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপির খবর অনুযায়ী, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন দেখতে পান। মসজিদের পাশেই বসবাসকারী মুনির রামদান বলেন, ‘আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ও দরজা ভাঙা ছিল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে।
হামলাকারীদের লিখিত বার্তা
হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে যায়। এই ঘটনা গাজা উপত্যকার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য ও সতর্কতা
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এসব কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল হতে পারে।
পশ্চিম তীরে মসজিদ হামলার পরিসংখ্যান
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলা হয়েছে। এই সংখ্যা ইঙ্গিত দেয় যে, ধর্মীয় স্থানগুলো ক্রমাগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তদারকি ও হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হচ্ছে।
এই হামলা ফিলিস্তিনি জনগণের উপর চলমান দমন-পীড়নের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
