জাতিসংঘ মহাসচিবের হুঁশিয়ারি: বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার চরম আক্রমণের মুখে
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার এখন চরম আক্রমণের মুখে পড়েছে। সুদান, গাজা এবং ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে সোমবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, 'আইনের শাসনের জায়গা এখন গায়ের জোর বা শক্তির শাসন দখল করে নিচ্ছে। সারা বিশ্বে মানবাধিকারকে পরিকল্পিতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও বেশ গর্বের সঙ্গেই উপেক্ষা করা হচ্ছে।'
তহবিল সংকটে মানবাধিকার পরিষদের টিকে থাকার লড়াই
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, ব্যাপক অর্থসংকট, বিশেষজ্ঞদের ওপর চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিস্পৃহতার কারণে তার দফতর এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যমতে, সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব সংস্থাটির কাছে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া থাকলেও দেশটি মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, 'একদিকে মানবিক প্রয়োজন বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে তহবিলের জোগান পুরোপুরি ধসে পড়ছে।'
সুদান, গাজা, ইউক্রেনে সংঘাত ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ
ভলকার তুর্ক কাউন্সিলকে সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান বিশ্ব এখন ক্ষমতা এবং সম্পদের সবচেয়ে তীব্র লড়াই প্রত্যক্ষ করছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের অধিকার। সুদান, গাজা, মিয়ানমার এবং ইউক্রেনের সংঘাত বন্ধে তিনি গুতেরেসের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তহবিল সংকটের কারণে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কাজ স্থগিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি হলো গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত এবং অন্যটি আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার অনুসন্ধান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, কিছু সদস্য রাষ্ট্রের মৌখিক সমর্থন থাকলেও তহবিলের অভাবে এই তদন্তগুলো আলোর মুখ দেখছে না।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের হুমকি
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, এর ফলে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়ছে। 'দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে দিবালোকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি হতে দিতে পারে না।' চলতি মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করতে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর ফলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা আরও সহজ হবে। ফিলিস্তিনিরা একে কার্যত দখলদারিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দাবি করে আসছেন। অথচ ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করে রাখা পশ্চিম তীরসহ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধানের পক্ষে অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশের।
